রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো। তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ রাশিয়াকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেন, ব্যাংক খাত, গ্যাস, তেল, সুইফটের বিরুদ্ধে অনেক কথা শোনা যাচ্ছে। যুদ্ধের চেয়ে যা আরও ক্ষতিকর। এসব পদক্ষেপ রাশিয়াকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।
রাশিয়ার ব্যাংক খাতকে নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। তারা মস্কোকে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা সুইফট থেকে বের করে দিতে চাচ্ছে। লুকাশেঙ্কো বলেন, অতীতে এসব পদক্ষেপকে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

বেলারুশের নেতা বলেন, সীমান্ত দেশগুলোতে যদি পশ্চিমারা পরমাণু অস্ত্র স্থাপন করে, তবে বেলারুশেও পরমাণু বোমা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভজেনি ইয়ানেন বলেন, স্থানীয় সময় সোমবার সকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো রোববার সকালের দিকে তাকে ফোন দিয়েছিলেন। এ সময়ে কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই ইউক্রেন-বেলারুশের সীমান্তের প্রিপায়েত নদীর কাছে বৈঠকে বসতে রাজি হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের ভ্রমণের সময় বেলারুশ ভূখণ্ডের সব বিমান, হেলিকপ্টার ও ক্ষেপণাস্ত্র যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায়ই থাকবে।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। মস্কোতে আল-জাজিরার প্রতিবেদক ডোরসা জাবারি বলেন, ইউক্রেন-বেলারুশের সীমান্তে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু রাশিয়ানরা বলছেন, তারা মনে করেন, বেলারুশের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গোমেলে বৈঠক হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে বেলারুশের গোমেল শহরে পথে রয়েছেন ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহযোগী ও প্রতিনিধি দলের প্রধান ভ্লাদিমির মেডিনস্কি এমন দাবি করেছেন।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বার্তা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচন জিতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে যথাসময়ে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই ঘোষণা আসে।

গত কয়েক মাস ধরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের আলোকে দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও গেজেট প্রকাশ ও কার্যকর করার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের উপদেষ্টারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকার। এই প্রেক্ষাপটেই তারেক রহমানের বক্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি। তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে সেবা ব্যবস্থায় স্থবিরতা তৈরি হয়। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেতন কাঠামো নিয়ে আর বিলম্ব করা হবে না; আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী ও সম্মানজনক পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের পর থেকেই সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি, গ্রেড কাঠামোর সংস্কার এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণের দাবি তুলে আসছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান পে-স্কেলকে অনেকেই অপ্রতুল বলে মনে করছেন। ফলে পে-স্কেল প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই ঘোষণা নির্বাচনী অঙ্গনে বিএনপির কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভোটার হিসেবে একটি বড় অংশ; তাঁদের প্রত্যাশা ও অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা।

তবে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ সতর্ক করে বলছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। রাজস্ব আয়, বাজেট ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে বিএনপি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখেই কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি পূরণ করবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক নজরদারি জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবসের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটগ্রহণের সুষ্ঠুতা ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সাক্ষাৎটি সৌজন্য হলেও আলোচনার পরিধি ছিল বিস্তৃত ও তাৎপর্যপূর্ণ, যা নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ ও উদ্বেগের প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইইউ প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হতে আগ্রহ প্রকাশ করে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য। তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতা, সমান সুযোগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৈঠক সূত্রে আরও জানা যায়, আলোচনায় নির্বাচনী আইন-কানুনের প্রয়োগ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা হয়। ইইউ পর্যবেক্ষক দলের সদস্যরা জানান, তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান থেকে নয়, বরং একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে এসেছেন। তাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে একটি বাস্তবধর্মী ধারণা নেওয়া।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় পর্যবেক্ষণ—এই দুই বাস্তবতা মিলেই সাক্ষাৎটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ইইউ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের প্রশ্নে আগ্রহী অংশীদার হিসেবে পরিচিত।

জামায়াত নেতারা বৈঠকে দাবি করেন, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান মাঠ নিশ্চিত না হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেন। ইইউ প্রতিনিধি দলও বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে জানায়, তারা সব মত ও অবস্থান শুনে একটি সামগ্রিক মূল্যায়নে পৌঁছাতে চান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল করতে সারা দেশে যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে, যা ভোট গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরও দীর্ঘ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোট গ্রহণের পরদিন শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী সহিংসতা, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রতিবারের মতো এবারও পরিবহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগের রাত ও ভোটের দিন যানবাহনের অবাধ চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কিছু এলাকায় অবৈধভাবে ভোটার পরিবহন, অস্ত্র বা অবৈধ সামগ্রী বহনের অভিযোগ ওঠে। এসব আশঙ্কা থেকেই এই কড়াকড়ি।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া যানবাহনের মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী উভয় ধরনের গাড়ি। ফলে দূরপাল্লার যাত্রা, পণ্য পরিবহন এবং শহরাঞ্চলে দৈনন্দিন চলাচলে সাময়িক ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, এই সাময়িক অসুবিধাই নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নির্বাচনী সহিংসতা বা হঠাৎ বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মোটরসাইকেল দ্রুত চলাচলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তিন দিনের এই নিষেধাজ্ঞা ভোটের আগে ও পরে নিরাপত্তা বলয়কে শক্তিশালী করবে।

এদিকে জরুরি সেবার ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ ও জরুরি সরকারি কাজে নিয়োজিত যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত ও স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও বাধা নেই, যা মূলত নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত হবে।

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বড় অগ্রগতি এসেছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫৭টি পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণমূলক ভোটাধিকার বাস্তবায়নের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল করে তুলবে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। দেশে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার বাস্তব সীমাবদ্ধতা, দূরত্ব ও সময়ের জটিলতা—সব মিলিয়ে প্রবাসী নাগরিকদের কণ্ঠ কার্যত অনুপস্থিত ছিল জাতীয় নির্বাচনে। সেই প্রেক্ষাপটে ডাকযোগে ভোট বা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু করাকে নীতিনির্ধারকেরা দেখছেন একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে।

‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রবাসীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট পূরণ করে ডাকযোগে পাঠিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে দেশে এনে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ব্যালটের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সঠিক গণনা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের এই অংশগ্রহণ কেবল ভোটের সংখ্যা বাড়াবে না, বরং রাজনৈতিক বৈধতা ও গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বড় ভূমিকা রাখলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ এতদিন সীমিত ছিল। পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা সেই ব্যবধান কমাতে পারে।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ডাকব্যবস্থার সময়ানুবর্তিতা, ব্যালট পৌঁছানো ও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া, এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা—এই তিনটি ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটিও বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা। এ কারণে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৩তম—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’ প্রকাশ করে, যা দেশের শাসনব্যবস্থা ও জবাবদিহিতার চিত্র নতুন করে সামনে এনেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সূচকের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ১৮২টি দেশের তালিকায় ১০০-এর স্কেলে বাংলাদেশের স্কোর ২৪। বৈশ্বিক গড় স্কোর যেখানে ৪২, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে। যদিও গত বছরের তুলনায় স্কোর ১ পয়েন্ট বেড়েছে, তবু সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশটি এক ধাপ পিছিয়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪তম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান একদিকে সীমিত অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও অন্যদিকে কাঠামোগত দুর্বলতার গভীরতাও প্রকাশ করে। স্কোর বৃদ্ধির অর্থ হলো কিছু ক্ষেত্রে নীতিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে; কিন্তু র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনমন প্রমাণ করে—অন্যান্য দেশ তুলনামূলকভাবে দ্রুতগতিতে উন্নতি করছে, বাংলাদেশ সেখানে পিছিয়ে পড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়, দুর্নীতির ধারণা সূচক মূলত সরকারি খাতে দুর্নীতির উপলব্ধি বা পারসেপশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ—এই সূচকগুলো গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি এবং শাস্তির সংস্কৃতির ঘাটতি দুর্নীতিকে প্রাত্যহিক বাস্তবতায় পরিণত করেছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দুর্নীতি এখানে বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে সূচকে টেকসই উন্নতি সম্ভব নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেবল নীতিনির্ধারণী বক্তব্য নয়, বাস্তব প্রয়োগ ও দৃশ্যমান জবাবদিহিতাই পারে অবস্থার পরিবর্তন আনতে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি ক্রয়, অবকাঠামো প্রকল্প এবং সেবা খাত—এই চারটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ডিজিটালাইজেশন ও ই-গভর্ন্যান্স আংশিক স্বস্তি দিলেও প্রভাবশালী মহলের দায়মুক্তি সেই অগ্রগতিকে ম্লান করে দিচ্ছে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে কোনো ধরনের সমঝোতা করা হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “দুর্নীতির সঙ্গে আপস করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে অর্থনীতি ও গণতন্ত্র—দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।” তাঁর বক্তব্যে ছিল কঠোর ভাষা, পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান।

জনসভায় ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মতিঝিল এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বক্তারা দাবি করেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়েই মাঠে নেমেছে বিএনপি।

তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থ লুটপাটের বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক কাঠামোকেও দুর্বল করে। “যেখানে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না, সেখানে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে,”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, অপরাধ দমন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। “দলীয় বিবেচনায় নয়, পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার মতো ইস্যুতে জোর দেওয়ার মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে বিএনপি। কারণ এসব বিষয় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে এই বার্তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রশাসনিক সংস্কার, স্বচ্ছ নিয়োগ এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা আনতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট বন্ধের উদ্যোগকে ‘অন্ধকার পথে হাঁটা’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অপরাধের বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ বক্তব্য দেন।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনকে অবাধ ও স্বচ্ছ করার পরিবর্তে তথ্যপ্রবাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তাঁর ভাষায়, “ইন্টারনেট বন্ধ মানে পুরো দেশকে অন্ধকারে রেখে ভোট করা। এতে কারা লাভবান হবে, সেটি জনগণ বুঝে গেছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে ভোট প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। “ভোটে হেরে যাওয়ার ভয়েই তারা নির্বাচন অপহরণ করতে চায়,”—এমন মন্তব্য করে তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মোহাম্মদপুরের জনসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নির্বাচনকালীন পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা দাবি করেন, তথ্যপ্রযুক্তি বন্ধ রাখলে ভোট কেন্দ্রের অনিয়ম, সহিংসতা বা জালিয়াতির খবর দ্রুত বাইরে আসবে না, যা গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং নাগরিক পর্যবেক্ষণের হাতিয়ার। সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য ছড়িয়ে দেন। সেটি বন্ধ করলে স্বচ্ছতা কমে যায়। “স্বচ্ছতা না থাকলে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয় না,”—যোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে ইন্টারনেট বা যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত করা হলে একদিকে গুজব নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও অন্যদিকে তথ্যপ্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে এর প্রভাব দ্বিমুখী। তবে বিরোধী দলগুলো এটিকে প্রায়ই প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে দেখে থাকে।

সভার বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো যেন নির্দিষ্ট পক্ষের সুবিধা তৈরি করছে—এমন ধারণা জনগণের মধ্যে বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা পুনর্গঠনের আহ্বান জানান তারা।

গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত রাখতে নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে ৮১ ঘণ্টা বা চার দিন অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, ভোটের আগে ও চলাকালে বহিরাগতদের উপস্থিতি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল কেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ায় বলে মনে করছে কমিশন।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে দেখা গেছে ভোটের দিন বা তার আগের সময়ে বাইরের এলাকা থেকে লোকজন এনে শক্তি প্রদর্শন, ভোটারদের ভয় দেখানো বা বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা ঠেকাতেই এবার আগে থেকেই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, সাধারণ ভোটাররা প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত কাজে যাতায়াত করতে পারবেন, তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা দলীয় প্রভাব বিস্তারের মতো কার্যক্রমে বাইরে অবস্থান করা যাবে না। প্রশাসন সন্দেহজনক উপস্থিতি বা অযৌক্তিক জমায়েত পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে এটি একটি ‘প্রিভেন্টিভ’ বা আগাম পদক্ষেপ। নির্বাচনের আগে কয়েকদিন এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভোটের পরিবেশ অনেকটাই শান্ত থাকবে। তবে এর প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার বিবেচনা করাও জরুরি। অযথা হয়রানি বা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে উল্টো অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সময়টিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। প্রচারণা, মিছিল-মিটিং, দলীয় শক্তি প্রদর্শন—এসব কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকে। ফলে বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে মাঠ প্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর।

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার আকর্ষণীয় ভাষা ও প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে সাজানো হলেও বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ বিশ্লেষণ তুলে ধরে।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন নেতারা বলেন, ভোটের আগে দলগুলো নাগরিকদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলোর অর্থায়ন, বাস্তবতা ও সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই। ফলে ইশতেহারগুলো অনেকটাই ‘কাগুজে স্বপ্নে’ সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাদের মতে, বড় দুই রাজনৈতিক দলের ইশতেহারেই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার ছড়াছড়ি। কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন—সবখানেই ব্যাপক বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথা থেকে এই বিপুল অর্থ আসবে, কীভাবে ব্যয় হবে কিংবা কর কাঠামোতে কী পরিবর্তন আনা হবে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা অনুপস্থিত।

সুজনের একাধিক প্রতিনিধি বলেন, একটি দেশের বার্ষিক বাজেট ও রাজস্ব সক্ষমতা বিবেচনা না করে ইশতেহারে অযৌক্তিক প্রতিশ্রুতি দিলে তা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তারা উদাহরণ দিয়ে বলেন, লাখ লাখ কর্মসংস্থান, সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা, ভর্তুকি বৃদ্ধি কিংবা বড় মেগা প্রকল্প—এসব বাস্তবায়নে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন, যা বর্তমান অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, বেশিরভাগ ইশতেহারেই জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি দুর্বল। দুর্নীতি দমন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কিংবা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা—এসব মৌলিক ইস্যুতে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি কম। অথচ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এগুলোই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইশতেহার হওয়া উচিত একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা। কিন্তু তা অনেক সময় হয়ে দাঁড়ায় আবেগনির্ভর প্রতিশ্রুতির তালিকা। ফলে নির্বাচন শেষে অনেক প্রতিশ্রুতি আর আলোচনাতেই থাকে না। এতে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানায়, শুধু আকর্ষণীয় স্লোগান দেখে নয়, বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিচার করেই দল বেছে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তারা আহ্বান জানায়—ইশতেহারে আয়-ব্যয়ের স্পষ্ট হিসাব, সময়সীমা এবং বাস্তবায়ন কৌশল যুক্ত করতে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহান। মোহাম্মদ এজাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্ত জানায়। ফলে রাজধানীর উত্তরাংশের নগর পরিচালনায় শুরু হচ্ছে নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সুরাইয়া আখতার জাহান ডিএনসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প ও নাগরিক সেবার তদারকি করবেন।

ডিএনসিসি রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশন। উত্তরা, মিরপুর, গুলশান, বনানী, বাড্ডা, মোহাম্মদপুরসহ বিস্তৃত এলাকায় প্রায় কোটি মানুষের বসবাস। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক অবকাঠামো, ড্রেনেজ, আলোকসজ্জা, স্বাস্থ্য ও লাইসেন্সিং—সবকিছুর ভার প্রশাসকের কাঁধেই পড়ে। ফলে এই পদে নিয়োগ শুধু রুটিন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

সুরাইয়া আখতার জাহান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার বিভাগে কাজ করছেন। মাঠ প্রশাসন ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয় দক্ষতার কারণে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

এর আগে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ এজাজ। তাঁর সময়ে কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প, সড়ক সংস্কার এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়। তবে যানজট, জলাবদ্ধতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগও ছিল। নতুন প্রশাসকের সামনে তাই একদিকে চলমান প্রকল্প শেষ করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নাগরিক প্রত্যাশা পূরণের চাপ।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ডিএনসিসিতে কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। শুধু অবকাঠামো নয়, ডিজিটাল সেবা, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণেও জোর দিতে হবে। নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে এসব ক্ষেত্রে গতি আসবে বলে আশা করছেন তারা।