নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকতে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় দাবি, এটি নির্বাচনের ঠিক আগে বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “ঠাকুরগাঁও জেলা আমির একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। তাঁর কাছে থাকা অর্থ সম্পূর্ণভাবে ব্যবসায়িক। এয়ারপোর্টের মতো একটি উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত জায়গায় যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ সিসিটিভি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত, সেখানে এ ধরনের নাটক সাজানো হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
বুধবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে প্রায় অর্ধকোটি (মতভেদে ৬০ থেকে ৭৪ লাখ) টাকাসহ বেলাল উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নির্বাচনী মাঠে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের জন্য এই টাকা নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে জুবায়ের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “একজন শিক্ষক ও ব্যবসায়ীর কাছে টাকা থাকা কি অপরাধ? তিনি ঢাকা থেকে ব্যবসায়িক লেনদেন শেষে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন। প্রশাসন একটি বিশেষ মহলের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে আসার পর বাইরে তাঁকে এভাবে আটক করা প্রমাণ করে যে, এটি আগে থেকেই তৈরি করা কোনো চিত্রনাট্যের অংশ। জুবায়েরের মতে, নির্বাচনের আগমুহূর্তে জামায়াত ও সহযোগী দলগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই ‘টাকা উদ্ধারের গল্প’ সাজানো হয়েছে।


