মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল গত কয়েকদিনে বেড়েছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, গত বুধবার একদিনেই ১৬টি জাহাজ এ রুট ব্যবহার করেছে। সবগুলো জাহাজই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করে চলাচল করছে, যা নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত বহন করছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছাতে এ পথ ব্যবহার করা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। কিন্তু সংঘাতের কারণে সংখ্যা হঠাৎ কমে যায়।

সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, টানা তিনদিন ধরে জাহাজ চলাচল বাড়ছে। যদিও তা এখনও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম, তবে প্রবণতা ইতিবাচক।

ইরানের ভূমিকা

ইরান ঘোষণা করেছে, যুদ্ধের পর থেকে সব দেশ তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে এবং নির্ধারিত টোল দিয়ে জাহাজ চালাতে পারবে। তবে তারা শত্রু ও মিত্র হিসেবে চিহ্নিত কিছু দেশের জাহাজ বাদ দিয়েছে। এর ফলে অনেক দেশ বাধ্য হয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপদ ট্রানজিট নিশ্চিত করছে।

সব জাহাজ লারাক দ্বীপের রুট ব্যবহার করছে। এটি ইঙ্গিত করছে, ইরান কার্যত ওই রুটকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তাদের শর্ত মেনে চলতে হচ্ছে।

মূল তথ্যসমূহ

  • গত বুধবার হরমুজ দিয়ে ১৬টি জাহাজ পার হয়েছে।
  • টানা তিনদিন ধরে জাহাজ চলাচল বেড়েছে।
  • যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এ রুট ব্যবহার করত।
  • সব জাহাজই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করে লারাক দ্বীপের রুট ব্যবহার করছে।
  • ইরান শত্রু ও মিত্র হিসেবে চিহ্নিত কিছু দেশের জাহাজ বাদ দিয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রুটে অস্থিরতা মানেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ। ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করে জাহাজ চলাচল বাড়া একদিকে বাণিজ্যের জন্য স্বস্তির খবর, অন্যদিকে এটি ইরানের কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এ প্রবণতা অব্যাহত থাকে তবে জ্বালানি বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে ইরানের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অনেক দেশকে বাধ্য হয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যেতে হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনসহ ব্যয় সংকোচনের নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ অনেক দেশকে ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি আমদানি ব্যয় আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।

অফিস সময় কমানো হলে বিদ্যুৎ খরচ কমবে, যানবাহনের ব্যবহার হ্রাস পাবে এবং সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।

নতুন সময়সূচি

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—

  • সরকারি ও বেসরকারি অফিস: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
  • ব্যাংক: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, তবে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

এর ফলে প্রতিদিন অফিস সময় এক ঘণ্টা কমে যাবে।

ব্যয় সংকোচনের অন্যান্য পদক্ষেপ

অফিস সময় কমানোর পাশাপাশি মন্ত্রিসভা বৈঠকে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন—

  • সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করা।
  • অফিসে এয়ারকন্ডিশন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ।
  • সরকারি যানবাহনের ব্যবহার কমানো এবং জ্বালানি খরচে কঠোর নজরদারি।
  • অপ্রয়োজনীয় সভা-সেমিনার ও বিদেশ সফর সীমিত করা।

মূল তথ্যসমূহ

  • অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা করা হয়েছে।
  • ব্যাংক সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে, আনুষঙ্গিক কাজের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
  • জ্বালানি সাশ্রয় ও ব্যয় সংকোচনই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
  • মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এ সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ।

অফিস সময় কমানো হলে কর্মঘণ্টা কিছুটা কমে যাবে, যা উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার মনে করছে, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় এ পদক্ষেপ জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

এছাড়া, অফিস সময় কমানো হলে কর্মীদের জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন আসতে পারে। যানজট কমবে, কর্মীরা পরিবারকে বেশি সময় দিতে পারবেন। তবে বেসরকারি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারে।

বিশ্বজুড়ে নারীদের একা ভ্রমণের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। গুগলের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ‘সলো ট্রাভেল ফর উইমেন’ শব্দবন্ধের সার্চ গত কয়েক বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—কোন দেশগুলো নারীদের জন্য নিরাপদ? ২০২৬ সালে একা বিদেশভ্রমণে নারীদের জন্য বিশেষভাবে নিরাপদ বিবেচিত পাঁচটি দেশকে তুলে ধরা হলো।

 

নারীদের একা ভ্রমণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা শঙ্কা থাকলেও, বিশ্বব্যাপী পর্যটন শিল্প এখন নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। নিরাপত্তা, সামাজিক সহনশীলতা, পরিবহন সুবিধা এবং জরুরি সেবার সহজলভ্যতা—সবকিছু মিলেই একটি দেশকে নারীদের জন্য নিরাপদ করে তোলে।

নিরাপদ ৫ দেশ

১. আইসল্যান্ড

বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় আইসল্যান্ড বরাবরই শীর্ষে। অপরাধের হার অত্যন্ত কম, মানুষ বন্ধুবৎসল এবং পর্যটকদের প্রতি সহানুভূতিশীল। রাজধানী রেইকিয়াভিক থেকে শুরু করে গ্রামীণ অঞ্চল পর্যন্ত নারীরা নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে পারেন।

২. নিউজিল্যান্ড

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড নারীদের জন্য নিরাপদ ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত, স্থানীয়রা অতিথিপরায়ণ এবং একা ভ্রমণকারীদের জন্য পর্যটন তথ্য সহজলভ্য।

৩. কানাডা

কানাডা বহুসাংস্কৃতিক সমাজের জন্য বিখ্যাত। নারীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো। বড় শহরগুলোতে পর্যটন সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে, যা একা ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

৪. জাপান

প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির দেশ জাপান নারীদের জন্য নিরাপদ ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে সুপরিচিত। ট্রেন ও বাস ব্যবস্থা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, আর স্থানীয়রা ভদ্র ও সহায়ক। নারীদের জন্য আলাদা ট্রেন কোচও রয়েছে, যা নিরাপত্তা বাড়ায়।

৫. সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ড শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, নিরাপত্তার জন্যও বিশ্বখ্যাত। পর্যটন অবকাঠামো উন্নত, আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী এবং জরুরি সেবা দ্রুত পাওয়া যায়। নারীরা একা ভ্রমণ করলেও নিশ্চিন্তে দেশটি ঘুরে দেখতে পারেন।

বিশ্বজুড়ে নারীদের একা ভ্রমণ এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং একটি প্রবণতা। পর্যটন শিল্পও নারীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি গ্রহণ করছে। তবে নিরাপদ দেশ বেছে নেওয়ার পাশাপাশি নারীদের ব্যক্তিগত সতর্কতাও জরুরি। ভ্রমণের আগে স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, জরুরি যোগাযোগ নম্বর জানা এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক।

আমরা প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটায় সময় মাপি, এক ঘণ্টা মানে ৬০ মিনিট। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন ৬০? কেন ১০০ নয় কিংবা অন্য কোনো সংখ্যা নয়? সময়ের এই বিভাজন আসলে হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার উত্তরাধিকার, যা আজও আমাদের জীবনে অটলভাবে রয়ে গেছে।

সময়ের হিসাব করার প্রয়োজন মানবসভ্যতার শুরু থেকেই ছিল। কৃষিকাজ, ধর্মীয় আচার কিংবা নৌযাত্রা—সবকিছুতেই সময়ের সঠিক হিসাব জরুরি ছিল।

প্রাচীন সুমেরীয়রা (প্রায় ২০০০ খ্রিস্টপূর্বে) প্রথম সময়কে ভাগ করার ধারণা দেন। তারা গণনার জন্য ৬০ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করত। এর কারণ ছিল সহজ: ৬০ একটি অত্যন্ত বিভাজ্য সংখ্যা। এটি ২, ৩, 4, 5, 6, 10, 12, 15, 20, 30 দ্বারা নিখুঁতভাবে বিভাজ্য। ফলে গণনা ও ভাগ করা সহজ হতো।

ব্যাবিলনীয় প্রভাব

সুমেরীয়দের পর ব্যাবিলনীয়রা এই পদ্ধতি আরও সুসংগঠিত করে। তারা আকাশ পর্যবেক্ষণ ও জ্যোতির্বিদ্যার জন্য সময়কে ৬০ অংশে ভাগ করেছিল। দিনকে ২৪ ঘণ্টায় ভাগ করার ধারণা আসে মিশরীয়দের কাছ থেকে, কিন্তু প্রতিটি ঘণ্টাকে ৬০ মিনিটে ভাগ করার কৃতিত্ব ব্যাবিলনীয়দের।

গ্রিক ও রোমানদের ভূমিকা

পরবর্তীতে গ্রিক জ্যোতির্বিদরা ব্যাবিলনীয় পদ্ধতি গ্রহণ করেন। বিখ্যাত গ্রিক জ্যোতির্বিদ হিপারকাস (খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতক) আকাশ পর্যবেক্ষণে ৬০ ভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। রোমানরা যখন সময় মাপার যন্ত্র তৈরি করে, তখনও এই বিভাজন বহাল থাকে।

আধুনিক যুগে স্থায়িত্ব

মধ্যযুগে ইসলামি জ্যোতির্বিদরা ও পরবর্তীতে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা একই পদ্ধতি অনুসরণ করেন। ঘড়ি আবিষ্কারের পর মিনিট ও সেকেন্ডের ধারণা আরও দৃঢ় হয়। আজকের ডিজিটাল যুগেও আমরা সেই প্রাচীন ৬০ ভিত্তিক পদ্ধতিই ব্যবহার করছি।

মূল তথ্যসমূহ

  • সুমেরীয়রা প্রথম ৬০ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করে।
  • ৬০ একটি অত্যন্ত বিভাজ্য সংখ্যা, যা গণনা সহজ করে।
  • ব্যাবিলনীয়রা ঘণ্টাকে ৬০ মিনিটে ভাগ করার ধারণা দেন।
  • গ্রিক ও রোমানরা এই পদ্ধতি গ্রহণ করে এবং তা স্থায়ী করে।
  • আধুনিক ঘড়ি ও ডিজিটাল সময় গণনাও সেই প্রাচীন পদ্ধতির উত্তরাধিকার।

যদি আমরা ভাবি কেন ১০০ মিনিট নয়, তবে উত্তর সহজ: ১০০ ততটা বিভাজ্য নয়। ৬০ সংখ্যাটি গণিতের দিক থেকে অনেক বেশি সুবিধাজনক। উদাহরণস্বরূপ, ৬০ কে ১৫ দিয়ে ভাগ করলে ৪ হয়, আবার ১২ দিয়ে ভাগ করলে ৫ হয়। এভাবে বিভিন্ন ভাগে সময়কে সহজে বিভক্ত করা যায়।

এছাড়া, জ্যোতির্বিদ্যা ও নৌযাত্রার জন্য সূক্ষ্ম সময় গণনা জরুরি ছিল। ৬০ ভিত্তিক পদ্ধতি সেই প্রয়োজন পূরণ করেছিল।

সকালের শুরুতে কিংবা কাজের ফাঁকে এক কাপ কফি, এ যেন আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন থেকে গেছে: কফি কি কোলেস্টেরল বাড়ায়? স্বাস্থ্যবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ওয়েব এমডি-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই বিতর্কিত বিষয়ে নতুন আলোকপাত করা হয়েছে।

কফি শুধু স্বাদের জন্য নয়, মানসিক সতেজতা ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। তবে চিকিৎসক ও গবেষকদের মধ্যে বহুদিন ধরে আলোচনা চলছে—কফি কি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়?

কোলেস্টেরল মূলত দুই ধরনের:

  • LDL (খারাপ কোলেস্টেরল)
  • HDL (ভালো কোলেস্টেরল)

অতিরিক্ত LDL শরীরে জমে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই কফি যদি সত্যিই LDL বাড়ায়, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে।

গবেষণার ফলাফল কী বলছে

ওয়েব এমডি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কফির মধ্যে কিছু প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে—বিশেষ করে ক্যাফেস্টল ও কাহওয়েল। এগুলো কফি বিনের তেলজাতীয় উপাদান, যা শরীরে কোলেস্টেরল উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে বিষয়টি নির্ভর করে কফি কীভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে তার ওপর:

  • ফিল্টার কফি (ড্রিপ বা পেপার ফিল্টার): এতে ক্যাফেস্টল ও কাহওয়েল অনেকটাই ছেঁকে যায়। ফলে কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি কম।
  • আনফিল্টারড কফি (তুর্কি, ফরাসি প্রেস, এসপ্রেসো): এতে ওই যৌগগুলো থেকে যায়। নিয়মিত পান করলে LDL বাড়তে পারে।

অর্থাৎ, কফি নিজে কোলেস্টেরল নয়, কিন্তু এর প্রস্তুত প্রণালী ও উপাদান শরীরে কোলেস্টেরল উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।


মূল তথ্যসমূহ

  • কফিতে ক্যাফেস্টল ও কাহওয়েল নামক যৌগ থাকে।
  • ফিল্টার কফিতে এদের প্রভাব কম থাকে।
  • আনফিল্টারড কফি নিয়মিত পান করলে LDL বাড়তে পারে।
  • পরিমিত কফি পান অনেক ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং মানসিক সতেজতা ও বিপাকক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, কফি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সচেতনভাবে বেছে নিতে হবে কোন ধরনের কফি পান করা হচ্ছে। যারা হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য ফিল্টার কফি তুলনামূলক নিরাপদ।

এছাড়া, কফি পান করার পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। দিনে তিন থেকে চার কাপের বেশি কফি পান করলে শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে—যেমন অনিদ্রা, উদ্বেগ, কিংবা হজমের সমস্যা।

হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা ও ইরানের অনুমতির জটিলতা এড়াতে বাংলাদেশ এবার বিকল্প পথে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি করছে। ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছাবে এই তেলবাহী ট্যাংকার।

হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের কারণে প্রণালিটি প্রায়ই অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে তেলবাহী জাহাজগুলো আটকে যায়, যা আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

বাংলাদেশের জন্য এ পরিস্থিতি নতুন নয়। সম্প্রতি ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে থাকা এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। তবে ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না।

বিকল্প পথের সিদ্ধান্ত

এই জটিলতা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার দ্রুত বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে। সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে নতুন করে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছাবে এই তেল। আগামী ২০ এপ্রিল ট্যাংকারটি লোড করার কথা রয়েছে।

এই পদক্ষেপকে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে। কারণ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো মানে আমদানি প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ করা।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং বিশ্বের অনেক দেশকেই বিপাকে ফেলছে। এ অবস্থায় বিকল্প পথ বেছে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার। এখানে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বাজারে সরবরাহ করা হয়। নতুন করে সৌদি আরব থেকে তেল আনার ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে বহুমুখী উৎস থেকে তেল আমদানির পরিকল্পনা করতে হবে। শুধু সৌদি আরব নয়, অন্যান্য দেশ থেকেও আমদানির পথ খোলা রাখতে হবে।

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি সামরিক শক্তি দিয়ে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সেই প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া সফরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি ট্রাম্পের নীতি ও বক্তব্যের অসঙ্গতি তুলে ধরেন।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী জাহাজগুলোর বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ার পর থেকেই এ পথকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, মিত্রদেশগুলো ইরান ইস্যুতে তাকে যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি টেলিভিশন ভাষণে সরাসরি নির্দেশ দেন, অন্যান্য দেশ যেন হরমুজ প্রণালি সামরিকভাবে দখল করে নেয়। এই বক্তব্যই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ম্যাক্রোঁর প্রতিক্রিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া সফরে থাকা অবস্থায় ম্যাক্রোঁ সাংবাদিকদের বলেন, “সিরিয়াস হতে চাইলে একেক দিন একেক কথা বলা যাবে না।” তার মতে, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং যুদ্ধবিরতি ও ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করাই হবে কার্যকর সমাধান।

ম্যাক্রোঁ আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনী পাহারায় থাকতে পারে, তবে সেটি হবে কেবল আশ্বাসমূলক মিশনের অংশ। সরাসরি দখল বা যুদ্ধের পথে হাঁটা কোনোভাবেই সমাধান নয়।

ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্রের একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো, বিশেষ করে ফ্রান্স, এ ধরনের সামরিক সমাধানকে সমর্থন করছে না। ম্যাক্রোঁর মন্তব্য শুধু ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা নয়, বরং ইউরোপীয় কূটনীতির অবস্থানও স্পষ্ট করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা আসতে পারে। তাই ফ্রান্স আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে চাইছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যে নীতি-অসঙ্গতি ও কৌশলগত বিভ্রান্তি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় ইনট্রা-ইউটেরিন ইনসেমিনেশন বা আইইউআই এখন বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল ও সহজ এই চিকিৎসায় ল্যাবরেটরিতে প্রক্রিয়াজাত শুক্রাণু সরাসরি নারীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। তবে প্রশ্ন হলো—কারা এই চিকিৎসা গ্রহণ করবেন, আর কারা নয়?

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যত্ব একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ছয় দম্পতির মধ্যে একজন প্রজনন সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এখন বন্ধ্যত্ব নিরাময়ে নানা পদ্ধতি চালু হয়েছে। এর মধ্যে আইইউআইকে ধরা হয় প্রাথমিক ধাপের চিকিৎসা হিসেবে।

আইইউআই মূলত তাদের জন্য কার্যকর, যাদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের কারণ খুব জটিল নয়। যেমন, পুরুষের শুক্রাণু সংখ্যা কম হলেও কার্যকর, অথবা নারীর ডিম্বাণু স্বাভাবিকভাবে উৎপন্ন হলেও গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিলে।

কারা আইইউআই গ্রহণ করবেন

চিকিৎসকরা সাধারণত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আইইউআই পরামর্শ দেন:

  • শুক্রাণুর সমস্যা: পুরুষের শুক্রাণু সংখ্যা কম বা গতি দুর্বল হলে।
  • অজানা কারণের বন্ধ্যত্ব: দম্পতির সব পরীক্ষা স্বাভাবিক হলেও গর্ভধারণ না হলে।
  • সার্ভিক্যাল সমস্যা: নারীর জরায়ুমুখে এমন পরিবেশ থাকলে যা শুক্রাণুর প্রবেশে বাধা দেয়।
  • ডোনার স্পার্ম ব্যবহার: বিশেষ পরিস্থিতিতে দাতা শুক্রাণু ব্যবহার করতে হলে।
  • ওভুলেশন সমস্যা: হরমোন চিকিৎসার মাধ্যমে ডিম্বাণু উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে আইইউআই প্রয়োগ করা হয়।

সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতা

তবে আইইউআই সব ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। যদি নারীর ফলোপিয়ান টিউব সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে বা গুরুতর এন্ডোমেট্রিওসিস থাকে, তবে এই পদ্ধতি কার্যকর হয় না। এ ধরনের ক্ষেত্রে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) বা আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসকরা সাধারণত তিন থেকে চারবার আইইউআই প্রয়োগের পরও ফল না এলে অন্য পদ্ধতির দিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশে বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। শহরাঞ্চলে বিশেষায়িত ক্লিনিকগুলোতে আইইউআই এখন নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে। ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারও এই চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছে। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে দেন—আইইউআই কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, বরং একটি ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়া।

সফলতার হার নির্ভর করে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের দক্ষতার ওপর। গড়ে ১০–২০ শতাংশ ক্ষেত্রে আইইউআই সফল হয়। তাই রোগী ও পরিবারকে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা নিয়ে চিকিৎসায় অংশ নিতে হয়।

ঢাকার ব্যস্ত সন্ধ্যা কিংবা গ্রামের আড্ডা, সব জায়গাতেই এখন জনপ্রিয় স্ন্যাক্স পটেটো ওয়েজেস। বাইরে রেস্তোরাঁয় পাওয়া গেলেও ঘরেই সহজ উপকরণে তৈরি করা যায় এই মচমচে খাবার। স্বাস্থ্যকর ও স্বাদে ভরপুর হওয়ায় এটি দ্রুতই তরুণদের প্রিয় তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

পটেটো ওয়েজেস মূলত পশ্চিমা খাবার। আলুকে মোটা করে কেটে মশলা মাখিয়ে ভাজা বা বেক করা হয়। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো হলেও ওয়েজেসে থাকে আলুর আসল স্বাদ ও নরম ভেতরাংশ। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফাস্টফুড সংস্কৃতির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ওয়েজেসও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত ওয়েজেস অনেক সময় অতিরিক্ত তেলযুক্ত হয়। তাই অনেকেই এখন ঘরেই স্বাস্থ্যকর উপায়ে এটি তৈরি করছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এটি আড্ডার খাবার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

রেসিপি ও প্রস্তুত প্রণালী

পটেটো ওয়েজেস বানাতে খুব বেশি উপকরণ লাগে না। সাধারণ রান্নাঘরের উপকরণ দিয়েই সহজে তৈরি করা যায়।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • মাঝারি আকারের আলু – ৪/৫টি
  • অলিভ অয়েল বা ভেজিটেবল অয়েল – ৩ টেবিল চামচ
  • লবণ – স্বাদমতো
  • গোলমরিচ গুঁড়া – আধা চা চামচ
  • লাল মরিচ গুঁড়া বা পাপরিকা – আধা চা চামচ
  • রসুন গুঁড়া – আধা চা চামচ
  • শুকনো হার্বস (ওরেগানো/থাইম) – সামান্য

প্রস্তুত প্রণালী

১. প্রথমে আলুগুলো ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ মোটা করে ওয়েজেস আকারে কেটে নিতে হবে।
২. একটি বড় বাটিতে আলু রেখে তেল, লবণ, মরিচ, রসুন গুঁড়া ও হার্বস দিয়ে ভালোভাবে মাখাতে হবে।
৩. ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ২৫–৩০ মিনিট বেক করতে হবে। মাঝপথে একবার উল্টে দিতে হবে যাতে দুই পাশই সমানভাবে মচমচে হয়।
৪. ওভেন না থাকলে ফ্রাইপ্যানে অল্প তেলে ঢেকে মাঝারি আঁচে ভাজা যায়।
৫. গরম গরম পরিবেশন করুন টমেটো সস বা মায়োনিজের সঙ্গে।

বাংলাদেশে ফাস্টফুড সংস্কৃতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তবে স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে অনেকেই এখন ঘরে তৈরি খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। পটেটো ওয়েজেস সেই চাহিদা পূরণ করছে। সহজ উপকরণ, কম সময় এবং স্বাদে ভরপুর হওয়ায় এটি তরুণদের পাশাপাশি পরিবারেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

রেস্তোরাঁয় পাওয়া ওয়েজেসের তুলনায় ঘরে তৈরি সংস্করণে তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে এটি শিশুদের জন্যও নিরাপদ। এছাড়া বিভিন্ন ডিপ সসের সঙ্গে পরিবেশন করলে খাবারটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে টানা জয়, আর তার পরপরই ফিফার হালনাগাদ র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে ফ্রান্স। ২০১৮ সালের পর প্রথমবার র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে দিদিয়ের দেশমের দল। তবে এই অর্জনই বিশ্বকাপের আগে তাদের জন্য হয়ে উঠছে দুশ্চিন্তার কারণ—কারণ ইতিহাস বলছে, র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপে যাওয়া দল কখনোই ট্রফি জিততে পারেনি।

ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা (১৯৯৮ ও ২০১৮)। দেশমের অধীনে দলটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। মার্চে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারানো এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

কিন্তু ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা যেন এক অদ্ভুত অভিশাপ। ১৯৯৩ সালে র‌্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর থেকে কোনো দলই শীর্ষস্থান ধরে রেখে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। জার্মানি, ব্রাজিল, স্পেন—সবাই এক সময় র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকেও বিশ্বকাপে ব্যর্থ হয়েছে।

ফ্রান্সের সামনে আরেকটি ‘অভিশাপ’ হলো শীর্ষে ওঠার পরপরই পারফরম্যান্সে ভাটা পড়ার প্রবণতা। ইতিহাস বলছে, র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা দলগুলো অনেক সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। দেশমও তাই শঙ্কায়—শীর্ষে ওঠা যেন আশীর্বাদ নয়, বরং অশনি সংকেত।

মূল তথ্যসমূহ

  • মার্চে ফ্রান্সের জয়: ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-২, কলম্বিয়ার বিপক্ষে ২-০।
  • ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স এখন এক নম্বরে, স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে।
  • ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর এবারই প্রথম শীর্ষে উঠল ফ্রান্স।
  • ইতিহাসে কোনো দল র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।
  • বাংলাদেশ এক ধাপ পিছিয়ে এখন ১৮১তম স্থানে।

ফ্রান্সের বর্তমান দলটি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া। কিলিয়ান এমবাপ্পে, আঁতোয়ান গ্রিজমান, এন’গোলো কান্তে—সবাই ফর্মে আছেন। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে চাপ সামলানোই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

দেশমকে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে—একদিকে শীর্ষে থাকার চাপ, অন্যদিকে ইতিহাসের অভিশাপ ভাঙার লড়াই। ফ্রান্স যদি এই মানসিক বাঁধা অতিক্রম করতে পারে, তবে তারা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগোতে পারে।