TT Ads

গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর আজ দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে নতুন যাত্রা শুরু করছেন। প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের সদস্য নির্বাচিত করার পাশাপাশি একটি গণভোটে অংশ নিচ্ছেন। এই গণভোটে ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ না বিপক্ষে ‘না’—এই দুই বিকল্পে মতামত জানাবেন তাঁরা।

এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত সেই বিজয়ের পর ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার, স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে একদলীয় কর্তৃত্বের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।

দীর্ঘ আলোচনা-পরামর্শের মাধ্যমে গঠিত হয় ‘জুলাই সনদ’ বা জুলাই চার্টার, যা সংবিধান সংশোধনের একটি রূপরেখা। আজকের গণভোটে এই সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবের ওপর জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়া হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই নির্বাচনকে অনেকেই ‘সবচেয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান থেকে উদ্ভূত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ অন্যান্য নতুন দলও মাঠে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে।

গণভোটের প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে—যেমন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ (সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ), নাগরিক পরিচয় ‘বাঙালি’ থেকে ‘বাংলাদেশি’ করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা বৃদ্ধি এবং সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষার নতুন বিধান। এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য একটি বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে, যাতে ড. ইউনূস নিজে বলেছেন, এটি “নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দেবে”।

মূল তথ্যসমূহ:

– ভোটার সংখ্যা: প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ
– সংসদীয় আসন: ৩০০ (২৯৯টিতে ভোট)
– প্রার্থী সংখ্যা: প্রায় ১ হাজার ৯৮১ জন
– গণভোটের প্রশ্ন: জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ না ‘না’
– সম্ভাব্য পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, দ্বিকক্ষ সংসদ, বিকেন্দ্রীকরণ, সংখ্যালঘু সুরক্ষা
– প্রধান দল: বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী জোট, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *