দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নিজের পুরোনো কর্মক্ষেত্রে ফিরে এসেছেন।
ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকম ভবনে অবস্থিত ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র চার দিন পর এই ফিরে আসা তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ইউনূস বিদেশ থেকে ফিরে এসে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। সেই থেকে প্রায় ১৮ মাস ধরে তিনি দেশকে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পথে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। এই সময়ে নির্বাচন কমিশন গঠন, সংস্কার কমিশনগুলোর কাজ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা—সবকিছুতেই তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিপুল বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠিত হয় এবং ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব শেষ হয়।
আজ সকালে ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে তাঁকে বরণ করে নেন গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, ইউনূস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপদেষ্টারা। পরে তিনি সেন্টারের পরিচালক ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং গ্রামীণ সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ইউনূস সেন্টারের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, “আপন অঙ্গনে ফিরে আসায় স্বাগতম অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস”। এই ফিরে আসা তাঁর ‘থ্রি জিরো’ (জিরো পভার্টি, জিরো আনএমপ্লয়মেন্ট, জিরো নেট কার্বন) উদ্যোগসহ সামাজিক ব্যবসা ও দারিদ্র্যবিমোচনের কাজে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অধ্যাপক ইউনূসের এই প্রত্যাবর্তনের পটভূমিতে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক উদ্যোগ। ১৯৭৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের যাত্রা শুরু করে তিনি মাইক্রোক্রেডিটের মাধ্যমে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেন। ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। ইউনূস সেন্টার ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সামাজিক ব্যবসা, যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম স্থগিত ছিল না হলেও তাঁর সরাসরি নেতৃত্ব অনুপস্থিত ছিল।
এখন তিনি দেশে থেকে কাজ চালিয়ে যাবেন এবং চলতি মাসের শেষের দিকে গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সহযোগীরা জানান, তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এবং সেন্টারের কার্যক্রম পুনরায় সচল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


