আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতিতে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার প্রদানে অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে গত বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ইসি। তার আগেই প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক অনলাইনে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ইসির ওয়েবসাইট থেকে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনা সাংবাদিক সমাজে বড় ধাক্কা দিয়েছে। নির্বাচন কভারেজের জন্য প্রথমবারের মতো চালু করা অনলাইন পদ্ধতি সুবিধাজনক হওয়ার কথা থাকলেও, প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এটি উল্টো বিপদ ডেকে এনেছে। শনিবার বিকেলে ইসির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (pr.ecs.gov.bd) ১৪ হাজারেরও বেশি সাংবাদিকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইলসহ সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসে। এই তথ্য যেকোনো মুহূর্তে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার জন্য গুরুতর হুমকি।
প্রেক্ষাপটে ফিরে যাই। নির্বাচন কমিশন জানুয়ারির শুরুতে ঘোষণা করে যে, এবার সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড পেতে সশরীরে আবেদনের পরিবর্তে অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে। এতে সময় বাঁচবে, কাগজপত্র কমবে এবং অনুমোদিত কার্ড ঘরে বসে ডাউনলোড করা যাবে—এমনই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তবে পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে। অনেক সাংবাদিক অভিযোগ করেন, এনআইডি নম্বর, ইমেইল, মোবাইল দিয়ে লগইন করতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে, আবেদন জমা পড়ছে না। ফলে নির্বাচন কভার করার সময়সীমা সংকুচিত হয়ে আসায় অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
সাংবাদিক নেতারা ইসির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনার পর ইসি সিদ্ধান্ত নেয় যে, অনলাইন বাধ্যতামূলকতা তুলে নেওয়া হবে। যারা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের আবেদন বিবেচনা করা হবে; বাকিরা সশরীরে নির্বাচন ভবনে এসে ম্যানুয়ালি কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। ইসি সচিব জানান, এই পরিবর্তন শিগগিরই কার্যকর হবে।
কিন্তু সমস্যা এখানেই শেষ হয়নি। অনলাইন আবেদনের তথ্য ফাঁসের ঘটনা ইসির ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। সাংবাদিকরা বলছেন, এ ধরনের তথ্য ফাঁস হলে পরিচয় চুরি, হয়রানি বা এমনকি রাজনৈতিক চাপের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।


