আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ ঘোষণা দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই পদক্ষেপ রমজানের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নতুন সরকারের প্রথম বড় উদ্যোগ।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছিল অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক ভর্তুকি, নগদ সহায়তা এবং নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বেড়েছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মন্ত্রী আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান ঈদের আগেই অন্তত পাইলট প্রকল্প শুরু হোক। রমজান মাসেই এটি চালু হবে, যাতে রোজাদাররা স্বস্তিতে বাজার করতে পারেন।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ মূলত ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে স্মার্ট কার্ডের ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের নামে ভর্তুকিমূল্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। কিছু ক্ষেত্রে নগদ অর্থও দেওয়া হতে পারে। মন্ত্রী জানান, এটি শুরুতে সার্বজনীন হবে—কোনো কঠোর শর্ত বা সীমাবদ্ধতা থাকবে না। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও পশ্চাৎপদ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে মধ্যবিত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
এই প্রকল্পের পেছনে রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিগত বছরগুলোতে টিসিবির ট্রাক সেল বা ওপেন মার্কেট সেলে সীমিত সুবিধা পাওয়া গেছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এই ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও টেকসই করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কার্ড যুক্ত করে দুর্নীতি কমানো যাবে এবং সঠিক মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রায় পাঁচ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য। শুরুতে পাইলট প্রকল্পে কয়েক লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর জাতীয় পর্যায়ে বিস্তার। বৈঠকে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে বাস্তবায়নের জন্য।


