আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে সব ধরনের সংশয় উড়িয়ে দিলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রবাসীদের ভোটদান প্রক্রিয়ায় কারচুপির কোনো ছিদ্র রাখা হয়নি। জালিয়াতি রুখতে এবার ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ডিজিটাল ও অবজারভেশন টিমের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “প্রবাসীরা আমাদের দেশের গর্ব। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা যেমন কমিশনের দায়িত্ব, তেমনি প্রতিটি ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষা করা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা এমন একটি প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরি করেছি যেখানে একজনের ভোট অন্য কারো দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
প্রবাসীদের ভোট গ্রহণ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে ভোটারকে ভোট প্রদানের সময় সরাসরি ভিডিও বা লাইভ ভেরিফিকেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর ফলে প্রবাসীর পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে ব্যালট ইস্যু বা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।
এ ছাড়া, ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার ভিন্নধর্মী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণে থাকবেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ডাকযোগে বা ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যালট পৌঁছানো এবং তা ফেরত আসার পুরো প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারি চালানো হবে।
সভায় নির্বাচন কমিশনার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সততা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন আপসহীন। কোনো কর্মকর্তা যদি কোনো প্রার্থীর পক্ষ অবলম্বন করেন বা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আপ্যায়ন বা আতিথেয়তা গ্রহণ করা যাবে না। এটি নৈতিক স্খলন এবং নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করার শামিল।


