গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ছিনতাইকারী সন্দেহে স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে দুজন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে খোদ্দকোমরপুর ইউনিয়নের মোজাহিদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত না হলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে।
ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন আঁধার ভেদ করে যখন গ্রামের মানুষজন ঘুম থেকে উঠছিলেন, তখনই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলযোগে এলাকায় ঘুরছিলেন। হঠাৎ কেউ একজন চিৎকার করে ওঠেন—‘ছিনতাইকারী!’ এই একটি শব্দই যেন আগুনের ফুলকি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ঘিরে ফেলে। তিনজনের মধ্যে একজন অন্ধকারের আড়ালে পালাতে সক্ষম হন, কিন্তু বাকি দুজন আর রক্ষা পাননি। লাঠি-সোঁটা, ইট-পাটকেল আর হাতের যা কিছু ছিল তাই দিয়ে চলে নির্মম প্রহার। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খবর পেয়ে সাদুল্লাপুর থানার কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেন। বেলা ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাদুল্লাপুরের এই অঞ্চলে গত কয়েক মাস ধরে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে ভোরবেলা বা রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেলে করে এসে লোকজনের মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, পুলিশি টহল কম থাকায় এবং আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ায় তারা নিজেরাই ‘বিচার’ করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু এই ‘বিচার’ যে কতটা বিপজ্জনক এবং অমানবিক, তা আজকের ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো।
গণপিটুনির এই প্রবণতা বাংলাদেশে নতুন নয়। গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় চোর-ছিনতাইকারী সন্দেহে শতাধিক মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরে দেখা গেছে, নিহতরা নিরীহ ছিলেন বা ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জনগণের মধ্যে আস্থার সংকটের চিত্র তুলে ধরে।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলিম উদ্দিন জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া তৃতীয় ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তে যদি ছিনতাইয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সে দিকেও খোঁজ নেওয়া হবে। কিন্তু গণপিটুনি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।


