আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকাসহ সারাদেশের সব দোকানপাট, বাণিজ্যবিতান ও শপিংমল আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতি পাঁচ বছর পরপর দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাময়িক স্থবিরতা নতুন কিছু নয়। তবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে একযোগে দুই দিনের বাণিজ্যিক বন্ধের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা, ভোটারদের চলাচল সহজ করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনের আগের দিন ও ভোটের দিন দোকানপাট খোলা থাকলে যানজট, জনসমাগম এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শপিংমল ও বড় মার্কেটগুলোতে মানুষের ভিড় ভোটগ্রহণে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এসব বিবেচনায় সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দোকানপাট বন্ধ রাখার আহ্বান জানায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও জাতীয় স্বার্থে এই সিদ্ধান্তকে তারা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, “দুই দিন দোকান বন্ধ থাকলে ক্ষতি তো হবেই, কিন্তু নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলে সেটাই সবার জন্য ভালো।” একই মত দিয়েছেন গুলিস্তান ও মিরপুর এলাকার একাধিক দোকান মালিক।
অন্যদিকে ভোক্তাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই আগেভাগেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ পড়তে পারে বাজারে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, বন্ধের আগের দিনগুলোতে বিক্রি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, যা আংশিকভাবে ক্ষতি পুষিয়ে দেয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটের দিন সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। দোকানপাট বন্ধ থাকায় ভোটারদের কেন্দ্রে যাতায়াত সহজ হবে এবং নির্বাচনী পরিবেশ আরও নিয়ন্ত্রিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


