ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাজধানী ঢাকায় অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেই রাজধানীবাসীর জীবনমান উন্নয়নে নতুন অঙ্গীকার তুলে ধরেছে বিএনপি। ইসিবি চত্বরে আয়োজিত পথসভায় তারেক রহমান বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকার তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা বদলাতে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।
তারেক রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে ঢাকার বর্তমান চিত্র। তিনি বলেন, “একসময় ঢাকায় পাড়ায় পাড়ায় খেলার মাঠ ছিল। আজ সেগুলোর অনেকটাই দখল হয়ে গেছে বা কংক্রিটের জঙ্গলে হারিয়ে গেছে।” শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি সুস্থ সমাজ গড়তে মাঠ, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান অপরিহার্য।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, এই খেলার মাঠগুলো শুধু ক্রিকেট বা ফুটবলের জন্য নয়, বরং বহুমুখী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মাঠগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালনার কথাও জানান তিনি। তার ভাষায়, “আমরা চাই, এসব মাঠ হোক এলাকার মানুষের সম্পদ, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা মূলত নগর ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে লক্ষ্য করে দেওয়া। ঢাকার নাগরিক জীবনে খেলার মাঠের সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী একটি শহরে যে পরিমাণ উন্মুক্ত স্থান থাকা প্রয়োজন, ঢাকায় তার তুলনায় অনেক কম। এই প্রেক্ষাপটে মাঠ তৈরির প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পথসভায় তারেক রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গত কয়েক বছরে ঢাকায় উন্নয়নের নামে কেবল রাস্তা ও ভবন বেড়েছে, কিন্তু মানুষের শ্বাস নেওয়ার জায়গা কমেছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নগর উন্নয়ন হবে মানুষকেন্দ্রিক, কেবল প্রকল্পকেন্দ্রিক নয়। খেলার মাঠের পাশাপাশি পার্ক, জলাশয় সংরক্ষণ ও হাঁটার পথ তৈরির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় উপস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, ঢাকার তরুণ সমাজ মাদক, সহিংসতা ও হতাশা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠ তৈরি হলে ক্রীড়াচর্চার পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনও শক্তিশালী হবে।
তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এই ঘোষণাকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির তালিকায় আরেকটি সংযোজন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অতীতে অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। এর জবাবে বিএনপি নেতারা বলছেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।


