নবনির্বাচিত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আজ বুধবার সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশে ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই প্রতিশ্রুতি দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, বিশেষ করে দীর্ঘদিনের দমনমূলক পরিবেশের পর।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর আজ বেলা সোয়া একটার দিকে সচিবালয়ে পৌঁছান জহির উদ্দিন স্বপন। বরিশাল-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ভয় ও নজরদারির মধ্যে কাজ করার মানসিক যন্ত্রণা তিনি নিজে উপলব্ধি করেছেন। “আমি জানি, গণমাধ্যমকর্মীরা যখন সারাক্ষণ ভয়ের ছায়ায় থাকেন, তখন সত্য প্রকাশ করা কতটা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই আমরা ইনশাআল্লাহ ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করব।”
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যে সরকারের পতন ঘটে, তারপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের ফলে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমের ভূমিকা এই আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজপথের কর্মীদের মতোই গণমাধ্যমকর্মীরা সত্য তুলে ধরে আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছেন। এখন সেই সত্য প্রকাশের পথ আরও সুগম করতে হবে।
জহির উদ্দিন স্বপনের রাজনৈতিক যাত্রা ছাত্রনেতা হিসেবে শুরু হয়েছে। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং পরে বিএনপিতে যোগ দেন। দলের মিডিয়া সেলের দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তার সোচ্চার ভূমিকা ছিল। নতুন দায়িত্বে এসে তিনি সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি ও পেশাগত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণমাধ্যম সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধান ছাড়া গণমাধ্যমের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের অপব্যবহারের কারণে সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হয়েছেন। নতুন সরকারের এই প্রতিশ্রুতি সেই অভিযোগের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, সরকার গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে যাতে সত্যের পথে কোনো বাধা না থাকে।


