TT Ads

বাঙালির পাতে ভাত আর পাশে এক টুকরো কাঁচা পেঁয়াজ—এ যেন এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। পেট ভরানো এই খাবারের জুড়ি মেলা ভার, কারণ এটি শুধু স্বাদই বাড়ায় না, বরং ভরসা জোগায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও। কিন্তু সম্প্রতি পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, এই সর্বগুণের অধিকারী কাঁচা পেঁয়াজ সবার জন্য সমান উপকারী নয়। বরং, কারও কারও জন্য এটি হয়ে উঠতে পারে নীরব বিপদ সংকেত।

শুধু স্বাদ নয়, প্রাচীনকাল থেকেই বাড়ির গৃহস্থালি টোটকায় পেঁয়াজের জুড়ি নেই। ভিটামিন সি-তে ভরপুর এই সবজি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং সালফিউরিক যৌগের ভাণ্ডার। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। কিন্তু সম্প্রতি শহরের একটি পুষ্টিবিষয়ক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই স্বাস্থ্যগুণের উল্টো পিঠে রয়েছে কিছু সূক্ষ্ম জটিলতা, যা উপেক্ষা করলে মূল্য দিতে হতে পারে হজমের জটিল রোগে।

পুষ্টিবিদ তাসনিম আরা দীপ্ত বলেন, “শহুরে জীবনে বদহজম ও পেটের পীড়া এখন কমন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যায় ভোগা অনেক রোগীই জানেন না, তাদের খাবারের প্লেটের এই ক্ষতিকর উপাদানটি আসলে কাঁচা পেঁয়াজ।” তিনি জানান, বিশেষ করে যাদের পাকস্থলি ও অন্ত্র স্পর্শকাতর, তথা যারা ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’ (আইবিএস) বা খিটখিটে অন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য কাঁচা পেঁয়াজ একেবারেই নিষিদ্ধ ফল।

কেন ক্ষতিকর কিছু মানুষের জন্য?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজে ফ্রুকটান নামের এক বিশেষ ধরনের কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা থাকে। এটি এক ধরনের দ্রবণীয় আঁশ। স্বাভাবিক হজমশক্তি সম্পন্ন মানুষের জন্য এটি হজম করা কষ্টকর না হলেও, যাদের অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নেই, তাদের জন্য এটি বড় বিপত্তি ডেকে আনে।

যখন এই ফ্রুকটান বড় অন্ত্রে পৌঁছায়, তখন সেখানে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়াগুলো দ্রুত সেটিকে ভাঙতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘ফারমেন্টেশন’ বা গাঁজানো। এই গাঁজানোর ফলে দ্রুত গ্যাসের সৃষ্টি হয়, যা পেট ফাঁপা, অস্বস্তি, এমনকি তীব্র ব্যথার কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানারও সৃষ্টি করে। আইবিএস রোগীদের জন্য এই উপসর্গগুলি আরও তীব্র হয়ে দেখা দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • ঝুঁকির মাত্রা: পেঁয়াজে থাকা ফ্রুকটান ‘FODMAP’ নামক এক শ্রেণীর কার্বোহাইড্রেটের অন্তর্ভুক্ত, যা আইবিএস রোগীদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর।

  • উপসর্গ: কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পেট ফাঁপা, ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক ও ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • শুধু পেঁয়াজ নয়: রসুন, লিক পেঁয়াজ ও মরিচের মতো অন্যান্য উপাদানও এই সমস্যা বাড়াতে পারে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *