ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সেখানকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবস্থা জানতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
রোববার সকালে সচিবালয়ে এই সাক্ষাতে যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে, এবং প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সকালে দেখা করেন। ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশিরা কী অবস্থায় আছেন, সে সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের ফলে অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা প্রবাসীদের ফিরতে বাধা সৃষ্টি করছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা বিপুল—আনুমানিক ৮ মিলিয়ন বাংলাদেশি সেখানে কাজ করেন, যা দেশের মোট প্রবাসীদের প্রায় ৬০ শতাংশ। সৌদি আরবে একাই প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন বাংলাদেশি রয়েছেন, যারা বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠান। এই অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাবে তাদের জীবন ও কর্মক্ষেত্রে হুমকি দেখা দিয়েছে। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে বিমানবন্দর বন্ধ, বিমান চলাচল স্থগিত হওয়ায় অনেকে আটকে পড়েছেন।
সাম্প্রতিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর দুবাই, দোহা, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেশে ফেরার পথে বড় বাধা। উদাহরণস্বরূপ, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক হাব—পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে কাতার, কুয়েত, ইরাক, ইরানসহ অনেক দেশে ফ্লাইটের ৫০ শতাংশেরও বেশি বাতিল হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বিপদজনক। উপসাগরীয় যুদ্ধ বা সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় প্রবাসীদের জীবনহানি, চাকরি হারানো এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো গাল্ফ দেশগুলোতে প্রবাসীদের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে। যুদ্ধের কারণে শ্রমিকরা শারীরিক নিরাপত্তাহীনতা, বেতন অপ্রাপ্তি এবং শোষণের শিকার হন। এছাড়া, অবৈধ প্রবাসীরা আটক হলে আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়েন।
প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক নতুন সরকারের প্রবাসী কল্যাণে অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত দেয়। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড—প্রায় ২৩৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৭৬ সাল থেকে। যুদ্ধের ফলে এই প্রবাহ কমলে দেশের অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগবে। সরকারকে প্রবাসীদের সুরক্ষায় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে, যেমন সুরক্ষা সেল গঠন বা স্থানান্তরের ব্যবস্থা।


