ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
শ্রীলঙ্কার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় টেলিভিশনে এ তথ্য জানানোর পর রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার সকালে গালে বন্দরের কাছে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনা ঘটে। জাহাজটির নাম আইআরআইএস ডেনা (IRIS Dena), যা মৌজ ক্লাস ফ্রিগেট। জাহাজটি সম্প্রতি ভারতের বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত মিলান-২০২৬ নৌ মহড়ায় অংশ নিয়ে ইরানের দিকে ফিরছিল।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী জানায়, জাহাজে প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন। বিপদ সংকেত পাওয়ার পর লঙ্কান নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮০-এর বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করে বলেন, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার কোনো শত্রু জাহাজকে টর্পেডো দিয়ে ডুবানোর ঘটনা। তিনি এটিকে ইরানের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত অভিযানের অংশ বলে উল্লেখ করেন। হামলাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় হয়েছে, যা ইরানি জাহাজকে নিরাপদ ভেবে চলাচল করতে দিয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রীলঙ্কার মতো নিরপেক্ষ দেশের কাছাকাছি এমন হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করেছে। ভারতের নৌবাহিনীর সঙ্গে সম্প্রতি যৌথ মহড়ায় অংশ নেওয়া জাহাজের এই পরিণতি দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর মুখপাত্র জানান, উদ্ধার অভিযান চলছে। গালে হাসপাতালে উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। লঙ্কান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনা ইরানের নৌশক্তির ওপর বড় ধাক্কা। আইআরআইএস ডেনা ইরানের আধুনিক ফ্রিগেটগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ও টর্পেডো দিয়ে সজ্জিত। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা ইরানের নৌবাহিনীকে আরও সতর্ক করে তুলবে।


