ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা করেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আক্রমণ না এলে আর কোনো হামলা চালাবে না ইরান। শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ এই নীতির অনুমোদন দিয়েছে বলে তিনি জানান। সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশীদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তবে প্রতিবেশীদের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। অন্যদিকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ইরানের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও একটি সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।
এই ঘোষণা এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিনে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে—যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন—মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, কারণ সেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এতে বেসামরিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তেহরান এখন অঞ্চলের রোষ থেকে বাঁচতে চায় এবং যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত হতে দিতে চায় না। তিনি একটি প্রাক-রেকর্ডেড ভাষণে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাই যারা আমাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “আমরা দুঃখিত যে প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে হামলা করতে হয়েছে। কিন্তু এর জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো। আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই।” এই বক্তব্যে ইরানের দ্বৈত নীতি ফুটে উঠেছে—একদিকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান, অন্যদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের ‘আনকন্ডিশনাল সারেন্ডার’ দাবিকে “কবরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট, আইআরজিসি সদর দপ্তর এবং অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। ইরান প্রতিশোধে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা করে, যা অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এখন ইরানের এই পদক্ষেপকে কেউ কেউ ডি-এসকেলেশনের চেষ্টা বলছেন, আবার কেউ বলছেন এটি চাপের মুখে পিছু হটা। অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদের অনুমোদন দেখিয়ে দেয় যে, এটি শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) শনিবার জানিয়েছে, তারা ইরানের সরকারি অবকাঠামোতে আরও এক দফা সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। এতে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই হামলা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।


