TT Ads

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের আন্দোলন-সংগ্রাম আর ত্যাগের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মির্জা ফখরুল এক আবেগঘন পরিস্থিতির অবতারণা করেন। তিনি স্মরণ করেন বিগত বছরগুলোর ভয়াবহ দমন-পীড়নের ইতিহাস। মহাসচিব বলেন, “আজ আমরা যে নতুন বাংলাদেশের নিঃশ্বাস নিচ্ছি, তা কোনো দান নয়; বরং এটি লাখো মানুষের রক্ত ও চোখের জলের ফসল। দীর্ঘ সংগ্রামের এই পথে আমাদের ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মী মিথ্যে মামলার বোঝা নিয়ে আদালতের বারান্দায় দিন কাটিয়েছে। ১ হাজার ৭০০-এরও বেশি ভাই গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন।”

বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এই রক্তস্নাত বিজয়কে সংহত করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।”

নির্বাচনোত্তর এই প্রেস ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন যে, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বেই বিএনপি আজ ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে। তিনি বলেন, “তারেক রহমান কেবল একটি দলের নেতা নন, তিনি এখন পরিবর্তনের প্রতীক। বিদেশে থেকেও তিনি যেভাবে সারা দেশে দলকে সুসংগঠিত করেছেন এবং জনগণের অধিকার আদায়ে অবিচল থেকেছেন, তা ইতিহাসে বিরল।”

তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে অর্জিত এই বিজয়কে অর্থবহ করতে হলে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা’ বাস্তবায়ন জরুরি। আর সেজন্যই জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *