শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের ‘বদলি বাণিজ্য’ বা ‘সিন্ডিকেট’ প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দ্বিতীয় কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ফেরানোর দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শপথ গ্রহণের পর কর্মতৎপরতায় বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে রাজি নন নতুন শিক্ষামন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সচিবালয়ে তার দপ্তরে সাংবাদিকদের ভিড় জমে। গত কয়েক বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে শিক্ষা খাতকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোয় ফিরিয়ে আনাই যে তার প্রধান লক্ষ্য, তা মন্ত্রীর শরীরী ভাষা ও বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল।
তিনি বলেন, “শিক্ষা কোনো বাণিজ্যের জায়গা নয়। বছরের পর বছর ধরে চলা বদলি সিন্ডিকেট এবং প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য আমি এক নিমেষে বন্ধ করতে চাই। যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ হবে, কোনো তদবির বা অনৈতিক লেনদেন এখানে চলবে না।” তার এই কঠোর অবস্থান শিক্ষা ভবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্নীতি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি ঘোষণা করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম ধাপে ধাপে ‘অ্যাপভিত্তিক’ করা হবে। এতে করে ফাইলের গতিবিধি ট্র্যাক করা সম্ভব হবে এবং কোনো ফাইল আটকে রেখে ঘুষ লেনদেনের সুযোগ থাকবে না।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অর্থাৎ সময়মতো বই না পাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “মানসম্মত বই সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। কাগজের সংকট বা সিন্ডিকেটের অজুহাতে বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করার দিন শেষ।”
গত কয়েক বছরে শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘মব কালচার’ বা গণদাবির মুখে অটোপাস দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার তীব্র সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি সরাসরি বলেন, “অতীতে রাস্তা অবরোধ করে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অটোপাস নেওয়া হয়েছে, যা মেধার অবমূল্যায়ন। ভবিষ্যতে এমন অরাজকতা আর বরদাশত করা হবে না। পরীক্ষা হবে মেধা যাচাইয়ের একমাত্র মাপকাঠি।”
একইসাথে শিক্ষকদের রাজনীতিতে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকরা ক্লাসরুম বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, এটা হতে পারে না। তাদের কাজ পাঠদান। রাজনীতির নেশায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


