ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণের পরই বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় একটি অভূতপূর্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা নেবেন না এবং সরকারি কোনো প্লটও গ্রহণ করবেন না।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই সভায় এই ঘোষণা দিয়ে বিএনপি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
সকালে শপথ নেওয়ার পর দুপুর সাড়ে এগারোটায় সংসদ ভবনের সংসদীয় দলের সভাকক্ষে বৈঠক শুরু হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করার পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দলের মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খানসহ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে অনেকে দেখছেন জনগণের অর্থের অপচয় রোধ এবং রাজনৈতিক নেতাদের বিলাসিতা পরিহারের একটি সাহসী উদ্যোগ হিসেবে।
বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট বরাদ্দের সুবিধা দীর্ঘদিনের। এসব সুবিধা প্রায়শই সমালোচনার মুখে পড়েছে, কারণ এতে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যক্তিগত সুবিধায় ব্যয় হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অতীতে বিভিন্ন দলের এমপিরা এসব সুবিধা গ্রহণ করেছেন, যা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিএনপির এই সিদ্ধান্ত তাই রাজনীতিতে একটি পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া বিএনপি এখন কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ অন্যান্য দলের ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে। যদি বিএনপির এমপিরা এসব সুবিধা ত্যাগ করেন, তাহলে অন্য দলগুলোর জন্যও এটি অনুসরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে সংসদ সদস্যদের জীবনযাত্রায় সরলতা ও জবাবদিহিতার এক নতুন মানদণ্ড তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের পর জনগণের মধ্যে যে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার দাবি উঠেছে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন।
দলীয় সূত্র জানায়, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারেক রহমানের নির্দেশনায় এমপিরা এতে একমত হয়েছেন। এটি শুধু ব্যক্তিগত ত্যাগ নয়, বরং দলের নৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ।


