TT Ads

মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৩ বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় এসব কম্পনে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে ১২টার পর থেকেই প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। এরপর ভোর পর্যন্ত একের পর এক ভূমিকম্পে বারবার কেঁপে ওঠে সিকিমের বিভিন্ন জেলা। ঘুমন্ত মানুষজন আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন, অনেকেই রাতটা কাটান খোলা জায়গায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে কম্পনের অভিজ্ঞতা, ভিডিও ও সতর্কতামূলক বার্তা।

ভারতের জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনসিএস) তথ্য অনুযায়ী, এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিকের ঘরে, তবে কিছু কম্পনের গভীরতা ছিল তুলনামূলক কম। ফলে কম মাত্রার হলেও একাধিকবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কের মাত্রা বেড়ে যায়। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিকম্পের স্মৃতি মানুষের মনে বরাবরই ভয় সৃষ্টি করে।

সিকিম প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ভূমিধস, সড়ক ক্ষতি বা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার খবর পাওয়া যায়নি। জরুরি পরিষেবা বিভাগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলোকে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, সিকিম ও আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এখানে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যে এতো বেশি সংখ্যক কম্পন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কম্পন ‘আফটারশক ক্লাস্টার’ বা ছোট ছোট কম্পনের ধারাবাহিকতা হতে পারে। এতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়ে—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও সতর্ক থাকা জরুরি। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ভূমিকম্পকালীন নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ কম্পন শুরু হওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। অনেকেই মনে করছেন, পাহাড়ি রাজ্যে ভূমিকম্প মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা প্রয়োজন।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *