দীর্ঘ ২২ বছর পর ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের জনপদ ময়মনসিংহে এসে গণমানুষের সামনে নিজের আগামীর স্বপ্ন উন্মোচন করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কেবল গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়; রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হলে প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর রূপরেখা।
ময়মনসিংহের এই জনসভাটি ছিল স্মরণকালের অন্যতম বড় জমায়েত। মঙ্গলবার বেলা ৪টার দিকে তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ মঞ্চে উঠলে পুরো মাঠ ‘ধানের শীষ’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে তিনি এই শহরে জনসভা করেছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের এই বিরতি এবং নির্বাসন কাটিয়ে ময়মনসিংহের মাটিতে তার এই উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতেই উপস্থিত জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান। তবে তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল ‘রাষ্ট্রীয় সংস্কার’ এবং ‘জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা’।
তারেক রহমান বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেই চলে না, জনগণের জন্য কাজ করতে হলে থাকতে হবে নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে হবে, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা কী—তা জনগণের সামনে স্পষ্ট থাকতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, একটি দেশের উন্নয়ন কেবল দালানকোঠা বা মেগা প্রজেক্টের ওপর নির্ভর করে না, বরং সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের ওপরই প্রকৃত সমৃদ্ধি ফুটে ওঠে।
বক্তব্যে তিনি বিএনপির ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি কেবল স্লোগানসর্বস্ব রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে বিএনপি যে রাষ্ট্র মেরামতের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন।


