স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা করেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় ভারতে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।
বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে। একই সভায় তিনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল ওরফে ফয়সাল) ও সহযোগী আলমগীর হোসেন গত শনিবার রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়, তবে তদন্তে হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে। হত্যাকাণ্ডটি গত ডিসেম্বরে ঢাকার পুরানা পল্টনে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যেখানে মোটরসাইকেল আরোহী শুটার হাদিকে গুলি করে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়, বিশেষ করে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধসহ কর্মসূচি পালিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হবে। এদিকে, সভায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, “পর্যটন বললেই কক্সবাজারের নাম আসে। এই সৈকতকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে অবৈধ দখল, অবৈধ স্থাপনা ও অরাজকতা দূর করা জরুরি।” সরকার ইতিমধ্যে সৈকতকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে, যাতে পর্যটকরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ পান।
কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অবৈধ দখল, টর্চার সেল, অবৈধ ব্যবসা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এর সম্ভাবনা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মন্ত্রীর এই ঘোষণা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।


