বিএনপি জাতীয় সংসদের পুরনো নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন, গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের দুদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন সংসদ অধিবেশন দেখে জাতি স্বস্তি পাবে এবং বলবে—এমন সংসদই তারা দীর্ঘদিন ধরে দেখতে চেয়েছিল।
এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন খুব কাছে। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি এখন সংসদীয় কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। অনেক নতুন সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রবেশ করছেন। তাদের জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মশালায় সংবিধান, সংসদীয় নিয়মাবলি, বিল-বাজেট পর্যালোচনা, স্থায়ী কমিটির কার্যপ্রণালীসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারিক রহমান নিজে উদ্বোধন করেছেন এই কর্মসূচি।
সালাহউদ্দিন আহমদের কথায় স্পষ্ট যে, বিএনপি অতীতের সংসদীয় অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংসদকে অনেকে ‘রাবার স্ট্যাম্প’ বা ‘একদলীয় আলোচনার মঞ্চ’ হিসেবে দেখে এসেছে। বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ, হট্টগোল, ওয়াকআউট—এসবের কারণে সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা কমেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নেতিবাচক চক্র ভাঙতে হবে। নতুন সংসদে আলোচনা হবে গঠনমূলক, বিতর্ক হবে যুক্তিভিত্তিক এবং সিদ্ধান্ত হবে জনকল্যাণমুখী। তিনি যোগ করেন, “জাতি এখন এমন একটি সংসদ দেখতে চায় যেখানে সব দলের কথা শোনা হয়, যেখানে সমালোচনা হয় সম্মানের সঙ্গে এবং যেখানে দেশের স্বার্থ সবার ওপরে।”
এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুধু নিয়মকানুন শেখানোর জন্য নয়, বরং একটা নতুন মানসিকতা গড়ে তোলার প্রয়াস। প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য এটি একটা সুযোগ—তারা শিখছেন কীভাবে সংসদকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন করা যায়। অভিজ্ঞ নেতা, সাবেক আমলা ও শিক্ষাবিদরা প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিএনপি সরকার গঠনের পর সংসদকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


