জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরেনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান তার প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে। জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ১৪টি দেশ থেকে নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত সরে যেতে সতর্কবার্তা জারি করেছে।
জেনেভায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে আলী বাহরেনি বলেন, “এই আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবো।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা ছিল—তেহরান নিজেদের সামরিক তৎপরতাকে আক্রমণ নয়, বরং আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করছে। চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাষ্ট্রদূত আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো প্রতিবেশী দেশের সামরিক ঘাঁটি যদি অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সেটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সেগুলো বিভিন্ন সময় আঞ্চলিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে।
ইরানের এই অবস্থানের পাল্টা প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, “গুরুতর ঝুঁকির” কারণে ১৪টি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থায় দেশত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিই এ সতর্কবার্তার কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই পাল্টাপাল্টি বার্তা কি সরাসরি সামরিক সংঘাতের পূর্বাভাস, নাকি চাপ সৃষ্টির কৌশল? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামরিক হুমকি ও নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান—দুটি পদক্ষেপই সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা জোরদার করে। একই সঙ্গে এগুলো আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থান নেওয়ার কৌশলও হতে পারে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে, তেহরানের সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়ে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।


