ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি ঘোষণা করেছেন, দেশটি একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে এখনো অদেখা নতুন প্রজন্মের কৌশলগত অস্ত্র মোতায়েন করা হবে। প্রেস টিভির খবর অনুসারে, এই বিবৃতি এসেছে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, যেখানে ইরান-মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাত চলমান।
আইআরজিসি মুখপাত্র বলেন, এ পর্যন্ত ইরানের সামরিক অভিযানে দেশের প্রকৃত সক্ষমতার মাত্র একটি ছোট অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর মতো পাল্টা হামলায়ও এটি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী দিনগুলোতে প্রতিপক্ষকে প্রতিটি পর্যায়ে ‘কঠিন ও বেদনাদায়ক আঘাত’ সহ্য করতে হবে। নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্রশস্ত্র ইতিমধ্যে প্রস্তুত, যা এখনো বড় আকারে যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত হয়নি।
এই বিবৃতির পটভূমিতে রয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান, যা ইরানের নেতৃত্ব, মিসাইল সাইট ও আইআরজিসি ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে। ইরানের পাল্টা হামলায় ‘ট্রু প্রমিস’ সিরিজের অংশ হিসেবে মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার হয়েছে। নাঈনি দাবি করেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এখন ইরান অনেক বেশি প্রস্তুত। তিনি বর্তমান সংঘাতকে ‘পবিত্র ও বৈধ যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন।
আইআরজিসি-র এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান হয়তো হাইপারসনিক মিসাইল, উন্নত ড্রোন সোয়ার্ম বা অন্যান্য অদেখা প্রযুক্তির কথা বলছেন। ইরানের মিসাইল কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত, এবং এরা দাবি করে যে তাদের অস্ত্রশস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। তবে পশ্চিমা সূত্রগুলো এসব দাবিকে প্রায়ই অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দেয়।
যুদ্ধের এই পর্যায়ে ইরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ‘নির্ণায়ক প্রতিক্রিয়া’-র হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন, কারণ যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে তেলের দাম, শিপিং রুট ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।


