TT Ads

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র পতন ঘটেছে—ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৩-১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারের কাছাকাছি নেমেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় একদিনের পতন।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে চলমান আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করে এই স্থগিতাদেশ। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, প্রণালি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। ইরানের প্রতিক্রিয়ায় প্রণালি অবরোধ আরও কঠোর করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই ঘোষণার পর বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরে এসেছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের মূল পথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭০-৭৫ ডলারের আশপাশে থাকলেও, প্রণালি বন্ধের পর তা ১১০-১১৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়—কখনো কখনো ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। এই অবস্থায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

সোমবারের পতনের পর ব্রেন্ট ক্রুড দিনের সর্বনিম্ন ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে, যদিও পরে কিছুটা ঘুরে ১০৩-১০৫ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল হয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ৮-১০ শতাংশ কমে ৯২ ডলারের নিচে নেমেছে। এই পতনের ফলে স্টক মার্কেটে উত্থান দেখা গেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই স্থগিতাদেশ যদি আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়, তাহলে তেলের দাম আরও কমতে পারে।

তবে সতর্কতাও রয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণা পাঁচ দিনের জন্য—আলোচনা ব্যর্থ হলে হামলা আবার শুরু হতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আসেনি। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা না হলে সরবরাহের সংকট অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, যুদ্ধের অন্যান্য দিক—যেমন গাল্ফের অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা—এখনও ঝুঁকি তৈরি করছে।

কয়েকটি মূল তথ্য:

  • তারিখ: ২৩ মার্চ ২০২৬ (সোমবার)
  • ট্রাম্পের ঘোষণা: ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা ৫ দিন স্থগিত
  • ব্রেন্ট ক্রুড: দিনের সর্বোচ্চ ১১২-১১৩ ডলার থেকে ৯৬ ডলারে নেমেছে (প্রায় ১৩-১৫% পতন)
  • ডব্লিউটিআই: ৯২.২৯ ডলার পর্যন্ত নেমেছে (প্রায় ৬-৮% কম)
  • হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের ২০% তেল ও এলএনজি পরিবহন; যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত বন্ধ
  • যুদ্ধ শুরু: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা)

এই ঘটনা প্রমাণ করে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যদি স্থায়ী শান্তির পথ খোলে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। কিন্তু পাঁচ দিন পর যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে তেলের দাম আবার আকাশছোঁয়া হতে পারে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *