মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৭ মার্চ) তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানে আজ ‘কঠোর আঘাত’ হানা হবে। তিনি দাবি করেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে এবং আর হামলা চালাবে না।
এই হুমকি এসেছে যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা তীব্রতর হচ্ছে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশীদের প্রতি অনুতাপ প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পের পোস্টে স্পষ্ট যে, তিনি ইরানের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবিরাম চাপের ফল বলে মনে করছেন। তিনি লিখেছেন, “ইরান আজ কঠোরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হবে! ইরানের খারাপ আচরণের কারণে এমন এলাকা ও গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে, যেগুলো এখন পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু ছিল না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ‘বুলি’ থেকে ‘লুজার’-এ পরিণত হয়েছে এবং এটি দশকের পর দশক চলবে যতক্ষণ না তারা আত্মসমর্পণ করে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়।
এই হুমকির পেছনে রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্য। পেজেশকিয়ান শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আক্রমণ না এলে আর হামলা চালাবে না ইরান। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে, যেখানে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ এই নির্দেশ দিয়েছে। তবে তিনি ট্রাম্পের ‘আনকন্ডিশনাল সারেন্ডার’ দাবিকে ‘কবরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন’ বলে উড়িয়ে দেন।
যুদ্ধ শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ দিয়ে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইসহ শীর্ষস্থানীয় কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন। ইরান প্রতিশোধে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে, যা অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। শনিবার ভোরে তেহরানে বিস্ফোরণের খবর এসেছে; ইসরায়েল ৮০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
ট্রাম্পের এই পোস্ট যুদ্ধকে আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের কথা বলেছেন, যা বেসামরিক এলাকা বা নতুন গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রতিবেশীদের প্রতি শত্রুতা নেই, কিন্তু মার্কিন ঘাঁটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।


