TT Ads

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬০ জন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। এই হামলা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের অংশ, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

এই ঘটনা ঘটেছে আজ সকালে, যখন বিদ্যালয়ে প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। মিনাবের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ে। স্থানীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর জানিয়েছেন, “ইসরাইল সরাসরি এই বিদ্যালয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।” উদ্ধারকাজ চলছে, এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ইসরাইল-ইরান সংঘাতের একটি দুঃখজনক অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ “বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান” ঘোষণা করেছেন, যার অংশ হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হচ্ছে।

ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরাইল এবং মার্কিন ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাত ২০২৫ সালের জুন মাসের অভিযানের পর নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে, যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা সামরিক লক্ষ্যের বাইরে গিয়ে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানায় মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি থেকে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে লোকজন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে, ধোঁয়া উঠছে এবং পরিবারের সদস্যরা কাঁদছেন। এই দৃশ্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নির্মমতাকে তুলে ধরে, যেখানে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে, তেহরানের পূর্বাঞ্চলে আরেকটি বিদ্যালয়ে হামলায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ” বলে অভিহিত করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

হামলার পরের ছবিতে বিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ এবং উদ্ধারকর্মীদের দেখা যায়, যা এই ট্র্যাজেডির মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরে।

এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়ছে। তেলের দাম বেড়েছে, এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে প্রবাসী শ্রমিকরা চিন্তিত, কারণ এই অঞ্চলে তাদের অনেকে কর্মরত। সরকারকে এখনই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে যাতে যুদ্ধ ছড়িয়ে না পড়ে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *