যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছে। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহের শেষে এই অভিযান শুরু হতে পারে, যদি সবকিছু ঠিকঠাক চলে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র। এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে তোলপাড় করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায়টি গত কয়েক বছরের উত্তেজনার ধারাবাহিকতা। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি যুদ্ধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঘটনা এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রস্তুতি শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্যও।
গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েন অভূতপূর্ব। পেন্টাগন বিমান এবং নৌবাহিনীর বিশাল অংশ সেখানে পাঠিয়েছে। সূত্রমতে, হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে যে সেনাবাহিনী যেকোনো মুহূর্তে অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক এবং শক্তিশালী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’। এই বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজটি এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ পারস্য উপসাগরে পৌঁছাতে পারে, যা ইরানের উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন শক্তির প্রতীক হয়ে উঠবে। এই জাহাজে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা যেকোনো হামলাকে তীব্রতর করে তুলতে পারে।
এই প্রস্তুতির পেছনে রয়েছে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করছে। উদাহরণস্বরূপ, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বা লেবাননের হিজবুল্লাহর কার্যকলাপে ইরানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। ট্রাম্প প্রশাসন এসবকে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা যদি হয়, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব ফেলবে। তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে, কারণ পারস্য উপসাগর দিয়ে বিশ্বের তেল সরবরাহের বড় অংশ যায়।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের সঙ্গে কথা বলার পক্ষে, যখন ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের মতো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন করছে। রাশিয়া এবং চীন ইরানের পক্ষে দাঁড়িয়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই উত্তেজনার প্রভাবে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যাই হোক, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভারসাম্যকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে।


