TT Ads

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের আগুন জ্বলছে টানা দুই সপ্তাহ। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান চলছে ইরানের সামরিক স্থাপনায়। কিন্তু তীব্র এই হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোটা সপ্তাহজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলা চালানোর পরও ইরানের ভূখণ্ডে মোবাইল লঞ্চারগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বললেই চলে ।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করে আসছিল, তারা ইরানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করে ফেলেছে । কিন্তু ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ বলছে, গত সপ্তাহেও এই ধ্বংসের হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ, আর এই সপ্তাহেও তা প্রায় একই জায়গায় স্থির রয়েছে।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দুটি মূল্যায়নেও ধ্বংসের পরিমাণ ৬০ শতাংশের কাছাকাছি দেখানো হয়েছে । অর্থাৎ, এক সপ্তাহের হামলায় নতুন করে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। এক্ষেত্রে একটি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের সামগ্রিক আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ।

প্রশ্ন হলো, কেন এমন হচ্ছে? সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মূল কারণ ইরানের ভূগোল এবং তাঁদের কৌশলগত অভিযোজন। ইরান একটি বিশাল দেশ। সেখানে ছোট ছোট মোবাইল লঞ্চার খুঁজে বের করা এবং ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন, বিশেষ করে যখন পুরো আকাশপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য ইরানের কিছু অংশের আকাশসীমা এখনও বিপজ্জনক, ফলে সেখানে নির্বিঘ্নে টহল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না ।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশ্লেষক অঙ্কিত পাণ্ডা ব্লুমবার্গকে বলেন, “মনে হচ্ছে ইরানিরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তাঁরা লঞ্চারগুলোর ব্যবহার ধীর করে দিয়ে সেগুলো সংরক্ষণ করছে এবং শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের ওপর বেশি নির্ভর করছে” ।

সংগৃহীত তথ্য বলছে, এই যুদ্ধে ইরান এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৯টি ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করলেও, শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ২ হাজার ৪০০টিরও বেশি ।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ৮০ শতাংশের বেশি কমে গেছে । কিন্তু যুদ্ধ থামছে না। বরং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেয়ি প্রথম বার্তায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং নতুন নতুন ফ্রন্ট খোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন । অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাঁরা ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতের অনুকূল অবস্থা তৈরি করছেন ।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *