আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সাশ্রয়ী রাখতে সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে ঈদযাত্রা প্রস্তুতি সভা শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঘোষণা করেছেন—কোনো বাস কোম্পানি বা পরিবহন মালিক যদি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি আদায় করে, তাহলে তার রুট পারমিট বাতিল করা হবে। এছাড়া তাৎক্ষণিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ঈদ মানেই যাত্রীদের জন্য অস্বস্তি—ভিড়, যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া, চাঁদাবাজি। প্রতি বছর এই সময়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নামে অযৌক্তিক দাবি ওঠে, যাত্রীরা পড়েন বিপাকে। এবার সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্পষ্ট বার্তা—এসবের কোনো সুযোগ নেই।
মন্ত্রী বলেন, “বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকা বেশি নিলেও আমাদের জানান, আমরা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেব। এটার নিয়ন্ত্রণ যে কোনো মূল্যে করা হবে।” সভায় পরিবহন মালিক, শ্রমিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঈদযাত্রা যেন নিরাপদ, আরামদায়ক ও স্বস্তির হয় সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন, ওভারলোডিং বন্ধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, টার্মিনালগুলোতে পর্যাপ্ত নজরদারি—সবকিছুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া বা চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্ট, তাৎক্ষণিক জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যাত্রীদের পক্ষ থেকে এই ঘোষণাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। অনেকে বলছেন, কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকলে এবারের ঈদযাত্রা আগের চেয়ে অনেক ভালো হবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় অনেকে সন্দিহান—কঠোর হুঁশিয়ারি থাকলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন কতটা হয়। মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, “এবার আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


