নির্বাচিত নতুন সরকারের অভিষেকের পর প্রথম ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দেশের খুচরা ব্যবসা খাত। দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে পোশাকে ২৫ শতাংশ ও জুতায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভিড় থাকলেও স্মার্টফোন ও ইলেকট্রনিক্স গেজেটের বাজারে এবার কিছুটা ভাটা পড়েছে।
টানা কয়েক মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের কেনাকাটায় ফিরেছে চিরচেনা ব্যস্ততা। বিশেষ করে পোশাক ও প্রসাধনী খাতের ব্যবসায়ীরা এবার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো সাড়া পাচ্ছেন। বড় ব্র্যান্ডগুলো থেকে শুরু করে ফুটপাত—সবখানেই ক্রেতাদের আনাগোনা গত কয়েক বছরের তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নতুন সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাই এই কেনাকাটার জোয়ারে জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।
পোশাক ও জুতার বাজারে উল্লম্ফন
রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি থেকে শুরু করে উত্তরের যমুনা ফিউচার পার্ক—সব জায়গাতেই দেশি-বিদেশি পোশাকের শোরুমগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু ফ্যাশন হাউসের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় তাদের বিক্রিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা এবার আকাশচুম্বী।
একই চিত্র দেখা যাচ্ছে পাদুকা বা জুতার বাজারে। নামকরা জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর আউটলেটে এবার ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চামড়ার স্যান্ডেল ও আধুনিক ডিজাইনের ক্যাজুয়াল সু বিক্রিতে এবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শুরু থেকেই কেনাকাটা জমজমাট ছিল, যা শেষ দশদিনে এসে একপ্রকার উৎসবে রূপ নিয়েছে।
কসমেটিক্সে প্রসাধিত হাসি, কিন্তু মোবাইলে ম্লান
গত কয়েক মাস ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে প্রসাধনী বা কসমেটিক্স খাতে এক ধরনের স্থবিরতা কাজ করছিল। কিন্তু ঈদের আমেজে সেই বাধা কেটে গেছে। গত ঈদের তুলনায় প্রসাধনী বিক্রিতে এবার অন্তত ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে ঘরোয়া মেকআপ আইটেম ও পারফিউমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে। গত কয়েক ঈদে নতুন মোবাইল কেনার যে হিড়িক দেখা যেত, এবার তাতে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইল ও গেজেট বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি তো হয়ইনি, উল্টো ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিক্রি কমেছে। ক্রেতাদের ভাষ্যমতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় বিলাসিতা কমিয়ে তারা মৌলিক চাহিদাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। অর্থাৎ, নতুন পোশাকের চেয়ে নতুন স্মার্টফোন এখন অনেকের তালিকার শেষে।
বাজার পরিস্থিতির এক নজরে পরিসংখ্যান:
-
পোশাক: বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সর্বোচ্চ ২৫%।
-
জুতা: ২০% পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি নিয়ে সন্তুষ্ট বিক্রেতারা।
-
কসমেটিক্স: দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে ১৫% বিক্রি বেড়েছে।
-
মোবাইল ও গেজেট: বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব, কমেছে ১০-১৫%।
-
ব্যবসায়ীদের মতামত: অধিকাংশের মতে, আগের চেয়ে বাজার পরিস্থিতি অনেক বেশি অনুকূল।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নির্বাচিত সরকারের অধীনে প্রথম ঈদে মানুষের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি কাজ করছে। যদিও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আছে, তবুও উৎসবের আমেজ অর্থনীতিতে বড় ধরনের তারল্য প্রবাহ ঘটিয়েছে। মোবাইলের বাজারে বিক্রি কমার পেছনে মূলত ডলারের উচ্চমূল্য এবং আমদানিকৃত ইলেকট্রনিক্স পণ্যের আকাশছোঁয়া দামকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে পোশাক ও জুতার মতো স্থানীয় উৎপাদনমুখী খাতে এই প্রবৃদ্ধি দেশের জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


