TT Ads

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল ওরফে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন। তার সঙ্গে সহযোগী আলমগীর হোসেনকেও আটক করা হয়েছে।

রোববার ভোররাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) এই অভিযান চালায়। এ ঘটনা দীর্ঘ তিন মাসের পলাতক জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ আইনি প্রক্রিয়ার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফয়সাল করিম মাসুদের খোঁজে ছিল বাংলাদেশ পুলিশ। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল আরোহী হামলাকারীরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ফয়সাল করিম মাসুদকে সরাসরি গুলিবর্ষণকারী হিসেবে শনাক্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

অভিযোগপত্রে ফয়সালকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যার পর ফয়সাল ও আলমগীর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। স্থানীয় সহায়তায় তারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। গত কয়েক মাসে তারা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর পর অবশেষে বনগাঁওয়ে ফিরে আসেন—সম্ভবত বাংলাদেশে পুনরায় প্রবেশের পরিকল্পনা নিয়ে। এসটিএফের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ভারতীয় আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

এই গ্রেফতার বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির খবর। হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফয়সালের গ্রেফতারে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। তার মালিকানাধীন অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। একপর্যায়ে তার ৫৩টি ব্যাংক হিসাবে ৬৫ লাখ টাকা অবরুদ্ধ হয়, এবং লেনদেনের পরিমাণ ১২৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় বলে তথ্য উঠে আসে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *