TT Ads

ইরান ইস্যুতে যুদ্ধের আগুন জ্বালানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এবার ঘুমের রাজা উপাধি দিল দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা। জাতীয় ঘুম দিবস উপলক্ষে ট্রাম্পের বিভিন্ন ‘নিদ্রাভঙ্গি’র ছবি ও ভিডিও সামনে এনে তাঁকে ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ (কমান্ডার ইন চিফ-এর আদলে) আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ডেমোক্রেটিক পার্টির অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে এই ট্রোলিং শুরু হলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয় ।

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও জনসমক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঝিমিয়ে পড়ার ভিডিও নতুন কিছু নয়। তবে ‘ন্যাশনাল ন্যাপিং ডে’ উপলক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সেই পুরনো ছবিগুলোই নতুন করে সামনে এনেছেন। গত নভেম্বরে ওভাল অফিসে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলি লিলি এবং নভো নরডিস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের একটি ছবি পোস্ট করে ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত একটি অ্যাকাউন্ট লেখে, ‘আজ জাতীয় ঘুম দিবস’ । ছবিতে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ সেই বৈঠকে চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে রয়েছেন ৭৯ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট।

এর আগেও ফেব্রুয়ারিতে ‘বোর্ড অব পিস’-এর বৈঠকে ট্রাম্পকে চেয়ারে নড়বড় করতে দেখা গিয়েছিল। সেবার তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকের একপর্যায়ে বারবার চোখ বুজে আসছিল তাঁর। বিশ্বনেতাদের বক্তৃতার মাঝে ট্রাম্পের ‘নিদ্রাভঙ্গি’র ভিডিও ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে । এর আগে ডিসেম্বরের ক্যাবিনেট বৈঠকেও একই অবস্থা দেখা গিয়েছিল। প্রায় আড়াই ঘণ্টার সেই বৈঠকে ট্রাম্পের চোখ বুজে থাকার ছবি নিয়ে তখনও ব্যাপক ট্রোলিং হয়েছিল ।

এই সমালোচনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ট্রাম্পের অনুসারী ও রিপাবলিকান নেতারাও। হাউস স্পিকার মাইক জনসন ট্রাম্পের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে এসে দাবি করেছেন, ট্রাম্প তাঁর দেখা সবচেয়ে কর্মঠ প্রেসিডেন্ট। মিয়ামিতে এক সমাবেশে জনসন বলেন, ট্রাম্প দিনে খুব কম ঘুমান বলেই তিনি এত সফল। তিনি জানান, রাত ২টায় বা ভোর ৭টায় প্রায়ই ট্রাম্পের ফোন আসে দাপ্তরিক কাজের খোঁজ নিতে। জনসনের দাবি, ট্রাম্প দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান ।

হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসও এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টাই কাজ করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা যখন ভ্রমণে যাই, স্বাভাবিক মানুষের মতো ঘুমানোর কথা থাকলেও তিনি ঘুমান না। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিনি ব্যস্ত থাকেন এবং আমরাও ততক্ষণ অপেক্ষা করি’ ।

সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প নিজেও মুখ খুলেছেন। তিনি অবশ্য কখনোই ‘ঘুমিয়ে পড়ার’ কথা স্বীকার করেননি। ক্যাবিনেট বৈঠকের ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলছে আমি চোখ বুজেছিলাম। দেখুন, বৈঠকটা ছিল বিরক্তিকর। আমি ঘুমাইনি, শুধু চোখ বুজেছিলাম। কারণ আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসতে চাইছিলাম’ ।

অন্য এক বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘরে ২৮ জন বসেছিল, প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু বলার ছিল। আমি তাদের বক্তব্য শুনতে শুনতে মনে মনে ভাবছিলাম, আমি কখন এখান থেকে যেতে পারব’ ।

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির চাবিকাঠি যাঁর হাতে, তাঁর শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ট্রাম্পের ঘুম নিয়ে এই ট্রোলিং যেন এক অর্থে ফিল্টার বনাম বাস্তবতার লড়াই।

ডেমোক্র্যাটরা যেখানে তাঁকে ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ বলে ট্রোল করছেন, সেখানে রিপাবলিকানরা তাঁকে ‘সুপারম্যান’ বা ‘অতিমানব’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন । ডেমোক্র্যাটিক স্ট্র্যাটেজিস্ট জেসিকা টারলভ অবশ্য মজা করে বলেছেন, ‘আমি যদি চার মাসে মাত্র ২০ দিন কাজ করতাম, তাহলে আমিও ক্লান্ত হতাম না’ ।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *