TT Ads

কিশোরগঞ্জকে শিল্প নয়, কৃষিনির্ভর জেলা উল্লেখ করে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে কৃষিকে রাখার অঙ্গীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “এই জেলার প্রাণ কৃষি। তাই কৃষিকেই শিল্পে পরিণত করতে হবে। আমরা কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ কৃষিকে শিল্পে রূপ দেব।” মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে দলীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দুপুরের আগেই কলেজ মাঠে জড়ো হন হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক। ব্যানার-ফেস্টুনে সজ্জিত জনসভায় স্থানীয় সমস্যার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। তবে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মূল সুর ছিল কিশোরগঞ্জের অর্থনীতিকে কৃষিভিত্তিক কাঠামোয় পুনর্গঠন।

তিনি বলেন, “ঢাকা বা গাজীপুরের মতো এখানে বড় বড় কারখানা বসানো বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু এই জেলার মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে পরিকল্পনা নিলে এখান থেকেই শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব।”

তার ভাষায়, কৃষিকে অবহেলা করে উন্নয়ন টেকসই হয় না। “ধান, সবজি, মাছ, দুধ—এসবকেই যদি আমরা শিল্পের কাঁচামাল বানাতে পারি, তাহলে গ্রামের মানুষ শহরমুখী হবে না,” যোগ করেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, কোল্ড স্টোরেজ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দারিদ্র্য কমবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃষিকে শিল্পে রূপান্তরের ধারণা নতুন নয়, তবে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে টেকসই করতে প্রয়োজন অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও বাজার সংযোগ—যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব নয়।

জনসভায় স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জে পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা না থাকায় তরুণদের বড় অংশ কর্মসংস্থানের জন্য রাজধানীমুখী হচ্ছে। এ বাস্তবতায় কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে কৃষকের ঘরে ঘরে সমৃদ্ধি আনতে চাই। শুধু স্লোগান নয়, বাস্তব কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবো।” তিনি দলের নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *