বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মুখে এখনই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একাধিক নাম ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে—স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামই সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে।
এই আলোচনা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরবর্তী অধ্যায়কে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, আর এর সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদের পরিবর্তনের সম্ভাবনা উঠে এসেছে। ব
র্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ডিসেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা এখন বাস্তবায়নের পথে। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সরকার গঠিত হলে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, আর সেই প্রক্রিয়ায় বিএনপির প্রভাব থাকবে অপরিসীম।
দলীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির দীর্ঘদিনের সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিত্ব। অতীতে জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
এবার কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের ভেতরে তার প্রভাব ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আদর্শ মনে করা হচ্ছে। কিছু দলীয় কর্মী-সমর্থকের মধ্যে এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে যে, এটি দলের প্রতিশ্রুতির একটি অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কেউ কেউ মনে করেন, তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে রাখা যেতে পারে।
তবে খন্দকার মোশাররফের নামের পক্ষে আলোচনা অনেক বেশি জোরালো। এছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও কিছু মহলে উঠে এসেছে, কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপতি পদে আগ্রহী নন বলে দলীয় সূত্র জানাচ্ছে।
এই আলোচনা শুধু নামের তালিকা নয়, বরং বিএনপির নতুন যুগের প্রতীক। দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় ফিরে দলটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজস্ব লোকবল দিয়ে স্থিতিশীলতা আনতে চায়। রাষ্ট্রপতি পদটি প্রতীকী হলেও এর মাধ্যমে দলের ঐক্য, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। খন্দকার মোশাররফের মতো একজন প্রবীণ নেতা এই পদে এলে তা দলের ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।


