সরকার সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে এবং মানদণ্ড নির্ধারণের পাশাপাশি তদারকি জোরদার করার লক্ষ্যে একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ এর খসড়া, যাতে অনিয়মের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই খসড়া তৈরি করেছে এবং এখন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত সংগ্রহ করছে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপকে নতুন আকার দিতে পারে।
বাংলাদেশের সম্প্রচার খাতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অসমানতা এবং মানহীনতার অভিযোগ উঠছে। টেলিভিশন, রেডিও এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞাপনের অসম বিতরণ, ভুয়া খবর প্রচার এবং লাইসেন্স লঙ্ঘনের মতো সমস্যা বেড়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ এসব সমস্যার সমাধানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সম্প্রচার কমিশন গঠনের মাধ্যমে সরকার চায় যাতে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সিং, প্রোগ্রামিং এবং বিজ্ঞাপনের মানদণ্ড একটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ কাঠামোয় আবদ্ধ হয়। এই কমিশন হবে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, যা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত হবে।
খসড়া অধ্যাদেশটি বিভিন্ন ধরনের অনিয়মকে লক্ষ্য করে কঠোর বিধান চালু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার, অসত্য তথ্য প্রচার বা বিজ্ঞাপনের নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে।
এছাড়া, কমিশনের ক্ষমতা থাকবে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার, যা সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই অধ্যাদেশের লক্ষ্য হলো সম্প্রচার খাতকে আধুনিক এবং জনকল্যাণমুখী করা, যাতে দর্শক-শ্রোতাদের অধিকার সুরক্ষিত হয়।
এই খসড়া তৈরির প্রক্রিয়ায় সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিচ্ছে। মিডিয়া সংগঠন, সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ জনগণের মতামত সংগ্রহের জন্য ওয়েবসাইট এবং সভা-সেমিনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে অধ্যাদেশটি আরও পরিপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কিছু মিডিয়া বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই কঠোর শাস্তির বিধান মিডিয়া স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে পারে। তারা বলছেন, অনিয়ম রোধের নামে সরকারি হস্তক্ষেপ বাড়তে পারে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অন্যদিকে, সমর্থকরা মনে করেন এই কমিশন গঠন দেশের সম্প্রচার খাতকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। ভারতের টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি বা যুক্তরাজ্যের অফকমের মতো সংস্থাগুলোর উদাহরণ টেনে তারা বলছেন, এমন কমিশন খাতের বিকাশ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৫টিরও বেশি টেলিভিশন চ্যানেল এবং অসংখ্য রেডিও স্টেশন রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র। এই কমিশন গঠন হলে তাদের কার্যক্রম আরও নিয়ন্ত্রিত এবং উন্নত হবে।


