TT Ads

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের বালিখলা ফেরিঘাটে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সংস্কার ইস্যুতে যে গণভোট হয়েছে তার ফলাফল আংশিক নয়, সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। খণ্ডিত প্রয়োগ জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দুপুরের নরম রোদে ফেরিঘাটের সাময়িক মঞ্চ ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও কৌতূহলী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানেই চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ সংসদ এবং গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সংস্কারের ওপর যে গণভোট হয়েছে, এটার পুরোটাই মানতে হবে। এর কোনো খণ্ডিত অংশ আমরা বাস্তবায়ন দেখতে চাই না।” তাঁর ভাষায়, গণভোট মানে জনগণের সরাসরি মতামত; সেই মতামতকে বেছে বেছে গ্রহণ করা হলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে। তিনি ইঙ্গিত দেন, জনগণের প্রত্যাশা ও ভোটের ফলাফলকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ দিয়ে খর্ব করার সুযোগ নেই।

সংসদকেন্দ্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, “দেশটা তো সংসদ থেকেই পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ। সংসদে একটা দল সরকারি দল হিসেবে, আরেকটা দল বিরোধী দল হিসেবে থাকবে। সমাজে এক চাকায় কোনো গাড়ি চলে না, মিনিমাম দুই চাকা লাগে।” তাঁর এই উপমা দিয়ে তিনি কার্যকর বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নিলে সহযোগিতার মনোভাব থাকবে। তবে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে দল জনগণের পক্ষেই অবস্থান নেবে। “আমাদের অবস্থান হবে ক্লিয়ার,”—সংক্ষেপে এভাবেই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক গণভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে বিভিন্ন দল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। সংস্কার ইস্যুটি এখন কেবল নীতিগত বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক কাঠামো এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের অবস্থান—‘পূর্ণ বাস্তবায়ন’—রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *