শনিবার ছুটির দিন হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। শপথ নেওয়ার পর এটি টানা তৃতীয় শনিবার যখন তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে কাজ করলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও কার্যালয়ে ছিলেন।
এই ঘটনা নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডের একটা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করেছে। বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত সরকার, যা ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবর্তে ক্ষমতায় এসেছে। শপথের পর প্রথম সপ্তাহেই তিনি কার্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, ছুটির দিনও কাজের দিন—যদি দেশের প্রয়োজন হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই অভ্যাস অনেকের কাছে নতুনত্ব এনেছে। অতীতে শনিবার ছুটির দিন হিসেবে পরিচিত ছিল, বিশেষ করে সরকারি অফিসে। কিন্তু তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দিচ্ছে যে, তিনি কর্মক্ষমতা ও দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সূত্র জানায়, এদিন তিনি জনপ্রশাসন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং শিক্ষা খাতের প্রাথমিক পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চান যে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কোনো বিলম্ব যেন না হয়। ছুটির দিনেও কাজের এই ধারা অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না সবকিছু স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।”
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং জনকল্যাণমুখী সংস্কারের কথা বলেছে। শপথের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর এমন কর্মতৎপরতা দেখে অনেকে বলছেন, এটি একটা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির শুরু। অতীতে সরকারি কার্যালয়ে ছুটির দিনে নীরবতা থাকত, কিন্তু এখন আলো জ্বলছে, বৈঠক চলছে—যা জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণ দলীয় নেতা-কর্মীদেরও উদ্বুদ্ধ করবে। দীর্ঘ নির্বাসনের পর দেশে ফিরে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান এখন প্রমাণ করতে চান যে, তিনি শুধু নেতা নন, একজন কর্মীও। এদিনের অফিস কর্মকাণ্ডে উপস্থিত উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “এটা শুধু অফিস করা নয়, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।”


