ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর দ্বার খুললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মাসব্যাপী গ্রন্থমেলার শুভ সূচনা করেন তিনি। পবিত্র রমজান মাসের কারণে এবারের সময়সূচিতে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন—প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে, আর ছুটির দিনগুলোতে শিশুপ্রহরের ব্যবস্থা থাকবে। আজ শুক্রবার প্রথম শিশুপ্রহর উদযাপিত।
দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও আলোচনার পর এবারের বইমেলা শুরু হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, এই মেলা শুধু বই বিক্রির আয়োজন নয়, বরং জাতির মেধা-মননের প্রতিফলন। তিনি একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য চলমান প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। উদ্বোধনের পর তিনি স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন স্টলে ঘুরে বই কেনেন এবং প্রকাশক-লেখকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এবার রমজানের কথা মাথায় রেখে সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ দিনগুলোতে মেলা খোলা থাকবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত; রাত সাড়ে ৮টার পর প্রবেশ বন্ধ। শুক্র-শনিবারসহ ছুটির দিনে শিশুপ্রহর থাকবে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত—এ সময় শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ থাকবে। এরপর সবার জন্য মেলা খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত। এই পরিবর্তন পাঠকদের রোজা রেখে আরামে মেলায় আসার সুযোগ করে দিয়েছে।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জুড়ে বিস্তৃত এই মেলায় অংশ নিয়েছে প্রায় ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব আয়োজন রাখা হয়েছে। তারাবি নামাজের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্বোধনের দিন কিছু স্টলের প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ থাকলেও দ্রুত সাজানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অমর একুশে বইমেলা বাঙালির অহংকারের প্রতীক। রমজানের মধ্যেও এর উৎসবমুখরতা অটুট থাকবে—এটাই আশা। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে যদি এই মেলা আন্তর্জাতিক রূপ নেয়, তাহলে বাংলা সাহিত্য বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।


