TT Ads

জনগণের অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের টাকা যারা লুট করেছে, তারা দুনিয়ার যেখানেই থাকুক শান্তিতে থাকতে পারবে না। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন।

দুপুর সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অর্থ ফেরত দেওয়া নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। তাঁর ভাষায়, যারা স্বেচ্ছায় জনগণের টাকা ফিরিয়ে দেবে, তারা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য হবে। তবে যারা তা করবে না, রাষ্ট্র ইনশাআল্লাহ তাদের কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না—এমন স্পষ্ট উচ্চারণ ছিল তাঁর বক্তব্যে।

নির্বাচনি জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারকে দেশের দীর্ঘদিনের সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে জনগণের ঘামঝরা অর্থ লুট হয়ে বিদেশে পাচার হয়েছে, যার দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো খাতে বিনিয়োগ না হয়ে সেই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসে ব্যয় হয়েছে—এ অভিযোগও করেন তিনি।

জামায়াত আমিরের বক্তব্যে ধর্মীয় ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা শুধু আইনের দৃষ্টিতেই অপরাধ নয়, এটি নৈতিকভাবেও গুরুতর অন্যায়। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিতে হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার অসম্ভব নয়।

সভায় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক নয়; বরং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই জামায়াতে ইসলামীর মূল অঙ্গীকার। এজন্য দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছ অর্থনীতি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে দুর্নীতিবিরোধী কঠোর ভাষা ব্যবহার করে জামায়াত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাচ্ছে। এতে একদিকে সমর্থকদের মধ্যে দৃঢ় বার্তা যাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতিও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

জনসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, সিলেটসহ সারাদেশে জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের জন্য দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব প্রয়োজন। সভাস্থলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি দেখা যায়, যা নির্বাচনি মাঠে দলটির সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *