TT Ads

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সরকার গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জনগণের কাছে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করা হবে—এবং সেই কাঠামোর মধ্যেই গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেওয়া হবে।

নতুন সরকার গঠনের পরপরই তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া জহির উদ্দিন স্বপনের এই বক্তব্য গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। বরিশাল সার্কিট হাউজে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা শুধু স্বাধীনতা দেব না, সেই স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিতার ভারসাম্যও রক্ষা করব। সাংবাদিক, প্রকাশক, সম্পাদক—সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই কাঠামো তৈরি হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর। কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থা এখনও সেই আধুনিক ইকোসিস্টেমের সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হতে পারেনি। তথ্য মন্ত্রণালয় যখন গড়ে উঠেছিল, তখন অনলাইন, সোশ্যাল মিডিয়া বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অস্তিত্বই ছিল না। আজকের দ্রুতগতির ডিজিটাল যুগে নতুন ধরনের গণমাধ্যমের প্রসার ঘটেছে—যেমন ইউটিউব চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল, সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক সংবাদ। এসবের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, “আমরা সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমকে একটা আধুনিক ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে আনতে চাই। এতে জনগণের তথ্যের অধিকার আরও শক্তিশালী হবে।”

এই ঘোষণা নতুন সরকারের অধীনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক সমাজ অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও স্বাধীনতার দাবি করে আসছে। মন্ত্রীর কথায় সেই দাবির প্রতি সাড়া মিলেছে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, জবাবদিহিতার কাঠামো কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেটাই মূল চ্যালেঞ্জ। যাতে স্বাধীনতা খর্ব না হয়, সেই ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।

 

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *