দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আজ সকালে সচিবালয়ে বিশেষ সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে সকাল ৯টা ২ মিনিটে শুরু হওয়া এই সভায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও জনগণের ভোগান্তি নিরসনে করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান এবং প্রথমে কিছু দাপ্তরিক কাজ সমাপ্ত করেন। পরে তিনি জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক বিশেষ সভায় যোগ দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সূত্র জানায়, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুত, আমদানি পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিশ্লেষণ করে সভায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি পরিস্থিতি: কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে?
সভার সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি খাতের সামগ্রিক চিত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। কর্মকর্তারা জানান, দেশে বর্তমানে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের মজুত স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার কারণে ভবিষ্যতে সরবরাহ শৃঙ্খলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সেদিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি সংকট ও দামবৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পাম্পগুলোতে কিছুটা অতিরিক্ত ভিড় দেখা যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে সভায় গুজব প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা।
গুজব মোকাবিলায় কঠোর নির্দেশনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই জ্বালানি নিয়ে গুজব ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না। জ্বালানি বিভাগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। জনগণকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অপ্রয়োজনীয় মজুত রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় পেট্রোল পাম্প মনিটরিং শুরু হয়েছে। কোনো পাম্প অযৌক্তিক দাম আদায় করলে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিশ্ব পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে প্রভাব ফেলছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার আগাম পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে বলে সভায় তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের তেল পরিশোধনাগারগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন করছে এবং আমদানি প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা নেই।
সভায় আগামী তিন মাসের চাহিদা মেটানোর মতো জ্বালানি মজুত রয়েছে বলেও জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহে উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আজকের এই সভা দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি নিয়ে আপাতত কোনো সংকট নেই এবং বাড়তি দামও ধার্য করা হচ্ছে না। তবে জনগণের উচিত গুজবে কান না দিয়ে সরকারি তথ্যের ওপর আস্থা রাখা।


