দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপ্রধানের প্রটোকলের কড়াকড়ি শিথিল করে সাধারণ নাগরিকের মতো সড়কে চলাচল করছেন। ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে গাড়ি চালানো, যানজটে আটকে না পড়ে মানুষের কর্মঘণ্টা বাঁচানো এবং পথচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়—এসব করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সচিবালয়ে যথাসময়ে পৌঁছে কর্মকর্তাদেরও একই নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে তিনি নতুন সরকারের গতিশীলতার উদাহরণ স্থাপন করছেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে তারেক রহমানের দৈনন্দিন জীবনযাপন দেশবাসীর নজর কেড়েছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলোতে ভিভিআইপি প্রটোকলের কারণে সড়কে ব্যাপক যানজট, জ্বালানি অপচয় এবং মানুষের সময় নষ্ট হতো। কিন্তু নতুন প্রধানমন্ত্রী সেই ধারা ভেঙে দিয়েছেন। রাস্তায় বের হলে তাঁর গাড়িবহর সিগন্যাল মেনে চলে, ফলে সাধারণ যানবাহনের সঙ্গে মিশে যায়। পথচারীরা তাঁকে দেখে এগিয়ে এলে তিনি জানালা খুলে হাত মেলান, কুশল জিজ্ঞাসা করেন। এমন সরলতা দেখে অনেকে বলছেন, এটাই সত্যিকারের জনগণের সরকারের ছবি।
অফিসে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সময়ানুবর্তিতার উদাহরণ। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছে তিনি মুখ্য সচিবসহ কর্মকর্তাদের স্বাগত জানান। মৌখিক নির্দেশে বলেছেন, সবাই নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হোন। এতে সচিবালয়ের পরিবেশে নতুন উদ্যম দেখা যাচ্ছে। রাত পর্যন্ত অফিস করে তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ তদারকি করছেন। ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পাশাপাশি অনির্ধারিত বৈঠক করে মন্ত্রী-সচিবদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই সাদামাটা আচরণের পিছনে রয়েছে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি ভূমিধস জয় পায়। তারেক রহমান ১৭ বছরের নির্বাসন শেষ করে দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। জনগণের ভোটে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন জিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। এখন তাঁর লক্ষ্য—দেশকে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া।
জনগণের মধ্যে এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখছেন, “প্রধানমন্ত্রী সিগন্যাল মেনে চললে আমরাও মানবো।” অনেকে বলছেন, এটি নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী বার্তা—সরকার জনগণের সঙ্গে মিশে থাকবে।


