TT Ads

রাজধানী ঢাকায় আগামীকাল মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিতব্য কর্মসূচির চারপাশে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ আশ্বাস দেন, যা দিবসটির নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। এই দিবসটি ভাষা শহীদদের স্মরণে জাতীয় গর্বের প্রতীক।

এই প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিশনার সাজ্জাত আলী বিস্তারিতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। শহীদ মিনার এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, সঙ্গে রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, মেটাল ডিটেক্টর এবং ডগ স্কোয়াড। এছাড়া, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। কমিশনারের কথায়, “আমরা জাতীয় এই দিবসকে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের নিরাপত্তা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”

মহান শহীদ দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ফিরে যাই। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাস্তায় নামেন। পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আব্দুস সালাম, আব্দুল জব্বার, রফিকউদ্দিন আহমদ, শফিউর রহমানসহ অনেকে। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীজ বপন করে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা বিশ্বব্যাপী ভাষা বৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরে। বাংলাদেশে এটি জাতীয় ছুটির দিন, যেখানে লাখো মানুষ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এবারের কর্মসূচি শুরু হবে আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে। তারপর সারাদিন চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা এবং প্রভাতফেরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মহামারির কারণে অনুষ্ঠানগুলোতে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এবার ডিএমপির আশ্বাসে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই দিবসটি শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং ভাষা অধিকারের লড়াইয়ের প্রতীক। পুলিশের পরিকল্পনায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, জরুরি চিকিত্সা সুবিধা এবং সাইবার নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত বছরের মতো এবারও মাস্ক এবং সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা থাকতে পারে, যদিও কোভিডের প্রভাব কমেছে। জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে কমিশনার বলেন, “সবাই মিলে এই দিবসকে সফল করি।”

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *