TT Ads

ভোটের অধিকার নিশ্চিত ও সুরক্ষিত রাখতে ভোটের দিন ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়তে হবে এবং সেখান থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রস্তুত থাকতে হবে—যাতে কোনোভাবেই ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনকে ঘিরে নানা অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই আহ্বান এসেছে। তারেক রহমান মনে করেন, ভোটারদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থানই ভোটের পরিবেশ রক্ষার অন্যতম উপায়। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় অনুশাসন ও নাগরিক কর্তব্যের সমন্বয় ঘটিয়ে ভোটারদের মনোবল জোরদার করার বার্তাও রয়েছে।

বিএনপির এক ভার্চুয়াল সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোটাধিকার কোনো দলের অনুগ্রহ নয়; এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার রক্ষায় ভোটের দিন শুরু থেকেই সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করার নির্দেশনাও দেন, যাতে ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার এই কৌশল একদিকে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর বার্তা দেয়, অন্যদিকে দলীয় কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ জোরদার করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, ভোটার অনুপস্থিতি কিংবা ভোটগ্রহণে বিলম্বের অভিযোগ উঠে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বিএনপি এবার ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।

তারেক রহমানের বক্তব্যে ধর্মীয় অনুষঙ্গ যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি সামাজিকভাবেও আলোচনা তৈরি করেছে। সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, ধর্মীয় আবহে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির আহ্বান ভোটারদের মানসিক প্রস্তুতি ও নৈতিক শক্তি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, ভোট একটি সম্পূর্ণ নাগরিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া; সেখানে ধর্মীয় আহ্বানের ব্যবহার নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বিএনপির নেতারা অবশ্য বলছেন, এখানে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নয়, বরং শৃঙ্খলা, শান্তিপূর্ণ অবস্থান এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “ভোর থেকে কেন্দ্রের সামনে থাকলে যেমন ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তেমনি কোনো অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ করা সহজ হয়।”

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। কমিশন বারবার ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের বার্তা নির্বাচন পরিবেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *