ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা দুটি শপথই গ্রহণ করেছেন—সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এই শপথবাক্য পাঠ করান। সকালে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের শপথ এড়িয়ে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দুপুরে জামায়াতের এমপিরা উভয় শপথ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
সকাল সাড়ে দশটায় শুরু হয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। রেওয়াজ অনুসারে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির এমপিরা প্রথমে শপথ নেন। তবে তারা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন; সংবিধান সংস্কার পরিষদের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় শপথ এড়িয়ে যান।
এর ফলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা সকালে শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ নেতারা জানিয়েছিলেন, সংস্কার ছাড়া সংসদ অর্থহীন—তাই বিএনপি না নিলে তারাও নেবেন না।
কিন্তু দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে পরিস্থিতি বদলে যায়। জামায়াতের নবনির্বাচিত এমপিরা শপথকক্ষে উপস্থিত হয়ে প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং তারপর ১২টা ২৭ মিনিটে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন উভয় শপথই পড়ান। এই সিদ্ধান্তকে অনেকে দেখছেন জামায়াতের রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন জিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েছে। এটি দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য। বিএনপির ২০৯ আসনের পর জামায়াতের এই অবস্থান বিরোধী দল হিসেবে তাদের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের দাবিগুলোকে আইনি কাঠামোয় রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জামায়াতের এই অংশগ্রহণ সেই প্রক্রিয়াকে গতি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়া এবং জামায়াতের গ্রহণের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। জামায়াত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংসদে থেকে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। এতে বিরোধী দলের ভূমিকা আরও সক্রিয় হবে। তবে কিছু মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই দুই শপথ কি দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখবে, নাকি নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে?


