সারাদেশে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের প্রতি জনসমর্থনের ঢেউ দেখে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচন বন্ধ বা ব্যাহত করার চেষ্টা হলে তার উপযুক্ত ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী বড় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন বিএনপির শীর্ষ নেতা।
দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নীলফামারীর ঐতিহাসিক বড় মাঠে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড় জমে ওঠে। মঞ্চে উঠে তারেক রহমান বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করছে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। তাঁর ভাষায়, এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখেই একটি গোষ্ঠী ভয় পেয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তবে বিএনপি ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, অতীতেও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা কৌশল নেওয়া হয়েছে। কখনো ভয়ভীতি, কখনো প্রশাসনিক বাধা, আবার কখনো অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভোট মানুষের অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে জনগণই তার জবাব দেবে।” তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ফলে মানুষ আজ দিশেহারা। এই বাস্তবতায় ধানের শীষের প্রতি মানুষের সমর্থন বাড়ছে। তাঁর মতে, এই সমর্থনই কিছু মহলের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, কৃষি ও শ্রমনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার। ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, সেচ সংকট ও বেকারত্ব এখানকার নিত্যদিনের সমস্যা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে—এমন আশ্বাসও দেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই বক্তব্য বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে দলীয় অবস্থানও স্পষ্ট করা হলো। তবে সহিংসতা নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভোটের মাধ্যমেই পরিবর্তনের আহ্বান—এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। তাঁরা বলেন, নীলফামারীসহ সারাদেশে বিএনপির গণসংযোগে অভূতপূর্ব সাড়া মিলছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।


