আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে একটি ‘ভয়শূন্য’ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক কড়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
বিবৃতিটি মূলত ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলির ঘটনার প্রতিবাদে জানানো হয়। মির্জা ফখরুল এই আক্রমণকে ‘সুপরিকল্পিত এবং উসকানিমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিএনপি মহাসচিব তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, “একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রধান শর্ত হলো ভোটারের মনে নিরাপত্তার বোধ তৈরি করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা ও সহিংসতা বাড়তে শুরু করেছে। কেরানীগঞ্জে হাসান মোল্লাকে গুলির ঘটনা তারই একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।”
তিনি আরও যোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জনগণের যে সংস্কারের প্রত্যাশা রয়েছে, তা সফল করতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। সন্ত্রাসীদের দমনে শৈথিল্য দেখালে তা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথকে কণ্টকিত করবে।
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, এই হামলা কেবল হাসান মোল্লার ওপর নয়, বরং এটি একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর আঘাত। তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন টানটান উত্তেজনা। বিএনপি বারবার দাবি করে আসছে যে, অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর কলঙ্ক মুছে দিতে এবার একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা অত্যাবশ্যক। মির্জা ফখরুলের এই সাম্প্রতিক বিবৃতি থেকে এটি পরিষ্কার যে, মাঠ পর্যায়ের ছোটখাটো সংঘাতকেও তারা নির্বাচনী প্রস্তুতির অন্তরায় হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেরানীগঞ্জের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই ধরনের হামলা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদি দ্রুত অপরাধীদের বিচারের আওতায় না আনা হয়, তবে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হবে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।


