নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে কোনো নতুন চ্যালেঞ্জ নেই। গতানুগতিক দায়িত্ব পালন করে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানই প্রধান কাজ। দীর্ঘ খরার পর ইনশাআল্লাহ সেই পথেই আমরা এগোচ্ছি। শুক্রবার বিকেল ৪টায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল ও ভিজিল্যান্স অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে এই সভা হয়। কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ ভালো। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু কোথাও অস্থিরতা বা সহিংসতার সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সামান্যতম ছাড় দেওয়া হবে না। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সভায় গণভোটের আচরণবিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশনার জানান, সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটের আচরণবিধি একই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণকে গণভোট সম্পর্কে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন, কিন্তু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে কোনো অবস্থান নিতে পারবেন না। এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা যদি পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়, তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
পটুয়াখালীতে চারটি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোটার উপস্থিতির লক্ষ্যে কাজ চলছে। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভিজিল্যান্স টিম ও পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।
দীর্ঘদিনের নির্বাচনী ‘খরা’র কথা উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, অতীতে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার অভাবে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এবার সেই ক্ষত সারাতে কমিশন বদ্ধপরিকর। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পক্ষপাতমূলক নির্দেশনা দেওয়া হবে না।


